ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত রোগ। চার ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাস পাওয়া যায়। এডিস মশার মাধ্যমে এটা ছড়ায়। এই সময়ে এডিস মশার বংশবিস্তার ঘটে। কারণ জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডেঙ্গু মশার বংশবৃদ্ধি ঘটে।
ডেঙ্গুর শ্রেণিবিভাগ: ডেঙ্গু জ্বর, ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিবার, ডেঙ্গু শক সিনড্রোম, এক্সপান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোম চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে আমরা ডেঙ্গু রোগীদের এই তিন ভাগে ভাগ করে থাকি।
গ্রুপ এ: ক্লাসিক্যাল বা সাধারণ ডেঙ্গু জ্বর, এদের ওয়ার্নিং সাইন থাকে না। এদের বাড়িতে চিকিৎসা দেয়া যায়।
গ্রুপ বি: ডেঙ্গু জ্বরের সঙ্গে ওয়ার্নিং সাইন থাকলে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। ওয়ার্নিং সাইন বা সাবধানতাজনিত লক্ষণগুলো হচ্ছে : বারবার বমি হওয়া, তীব্র পেটে ব্যথা, পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া, শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা। প্লাজমা লিকেজ হয়ে বুকে ও পেটে পানি জমা, রক্তচাপ অনেক কমে যাওয়া এবং যকৃতের আকার বৃদ্ধি পাওয়া।
গ্রুপ সি: সিভিয়ার ডেঙ্গু, যাদের টারশিয়ারি লেভেলে চিকিৎসা দিতে হয়। লক্ষ্মণ হচ্ছে অতিরিক্ত রক্তপাত, সিভিয়ার শক এবং অর্গান ফেলিউর যেমন– কিডনি ফেইলিউর, লিভার ফেইলিউর ও মস্তিষ্ক আক্রান্ত হওয়া। শিশু, বয়স্ক, ডায়াবেটিক রোগী, গর্ভবতীর ক্ষেত্রে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন জরুরি।
ডেঙ্গুর লক্ষণ: ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণ জ্বর। ৯৯ থেকে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত তাপমাত্রা উঠতে পারে, এর সঙ্গে শরীরে ব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা এবং চামড়ায় লালচে দাগ বা ফুসকুড়ি দেখা যায়।
ডেঙ্গু হলে কী করবেন? বেশির ভাগ রোগী বাসায় চিকিৎসা নিতে পারেন। মৃদু বা মাঝারি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিতে পারেন। কখন হাসপাতালে ভর্তি হবেন? কিছু কিছু লক্ষ্মণ দেখা দেওয়া মাত্র চিকিৎসক এর পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে: যেমন উপরোল্লিখিত গ্রুপ বি ও সি।
বাড়িতে কী করবেন: পরিপূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। প্রচুর তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের জুস এবং খাবার স্যালাইন পান করুন একটু পরপর। ডেঙ্গু জ্বর হলে প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে। স্বাভাবিক ওজনের একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন সর্বোচ্চ তিন গ্রাম প্যারাসিটামল খেতে পারবেন। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে গায়ে ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন, ক্লোফেনাক, আইবুপ্রোফেনুজাতীয় ওষুধ খাওয়া যাবে না। ডেঙ্গুর সময় এ জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করলে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে প্লাটিলেট এখন আর মূল বিষয় নয়। প্লাটিলেট হিসাব নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। প্লাটিলেট ট্রান্সফিউশনের প্রয়োজন ও নেই। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্লাড দিতে হতে পারে, যেমন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও সিভিয়ার শক, স্যালাইন দেওয়ার পরও উন্নতি না হলে।
প্রতিকার: বাড়ির আশপাশ পরিস্কার রাখতে হবে। জমানো পানি নিয়মিত ফেলে দিতে হবে। দিনের বেলায়ও মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে।পরামর্শ : জ্বর হওয়া মাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। রক্ত পরীক্ষা করে ডেঙ্গু কনফার্ম করতে হবে। ওয়ার্নিং সাইন দেখামাত্র হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।