২০০৩ সালে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের মিথ্যা অজুহাতে ইরাকে হামলা চালিয়ে সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করা হলেও কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি, বরং দীর্ঘ যুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং অঞ্চলে উগ্রপন্থার বিস্তার ঘটে।
একইভাবে ২০১১ সালে লিবিয়ায় গাদ্দাফিকে সরিয়ে দেওয়ার পর দেশটি দীর্ঘমেয়াদি গৃহযুদ্ধ ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এমনকি আফগানিস্তানে দুই দশক ধরে বিপুল অর্থ ও সামরিক শক্তি ব্যয়ের পরও মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের পর মুহূর্তেই তালেবান পুনরায় দ্রুত দেশের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে।
শীতল যুদ্ধ চলাকালে লাতিন আমেরিকাতেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বজায় রাখতে একাধিক নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাতে সরাসরি ইন্ধন দেয়।
১৯৫৪ সালে গুয়াতেমালায় প্রেসিডেন্ট আরবেঞ্জ, ১৯৬১ সালে কিউবার বে অব পিগস অভিযান এবং ১৯৭৩ সালে চিলিতে প্রেসিডেন্ট আলেন্দেকে সরিয়ে সামরিক জান্তা পিনোচেকে ক্ষমতায় বসানোর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।
কিন্তু এসব সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত ফলাফল ছিল দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা।
রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত সাত দশকের মার্কিন হস্তক্ষেপের ইতিহাস থেকে একটি স্পষ্ট বার্তা মেলে, আর তা হলো—সামরিক শক্তি দিয়ে কোনো দেশের সরকার ধ্বংস করা যতটা সহজ, তার পরবর্তী রাজনৈতিক শূন্যতা ও নতুন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা তার চেয়ে শতগুণ কঠিন।
মার্কিন নীতি বিশ্লেষকদের মতে, শাসনবদলের এই আগ্রাসী পদক্ষেপগুলো শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই নতুন ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সংকট তৈরি করেছে, যার ফলে দেশটির সাধারণ জনগণের মধ্যেও আজকাল বৈদেশিক সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।