বুধবার (২৬ জুলাই) জাতীয় মানবাধিকার কমিশন মণিপুর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তি ফেরাতে সক্রিয় হতে বলেছে ওই রাজ্যের সরকারকে। এর আগে মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) রাজ্যের কঙ্গপকপি জেলায় দু’টি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়ায় কেউ হতাহত হয়নি।
‘মিশ্র অঞ্চল’ হিসেবে পরিচিত মেইতেই ও জনজাতি গোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে ওই জেলায়। গত ৪ মে থৌবল ও কঙ্গপকপি জেলার সীমানাতে জনজাতি গোষ্ঠীর দুই নারীকে বিবস্ত্র করে হাঁটানো এবং ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল।
সূত্রে জানা গেছে, নাগাল্যান্ডের ডিমাপুর থেকে জেলা সদরে যাওয়ার পথে সাপোরমেইনা এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অবরোধের মুখে পড়ে নিরাপত্তা-বাহিনীর দু’টি বাস। ওই সময়ই বাস দু’টিতে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা।
গত ৩ মে মণিপুরের জনজাতি ছাত্র সংগঠন ‘অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ মণিপুর’ (এটিএসইউএম)-এর বিক্ষোভ-মিছিল ঘিরে উত্তর-পূর্বের ওই রাজ্যে সহিংসতার সূত্রপাত হওয়ার পরেই নিরাপত্তার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিল কেন্দ্র। সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকের ভার দেয়া হয় সিআরপিএফের সাবেক প্রধান কুলদীপ সিংহকে। তার অধীনে এডিজিপি (ইন্টেলিজেন্স) আশুতোষ সিংহ সমগ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার অপারেশনাল কমান্ডার হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু এখনো শান্তি ফেরার কোনো ইঙ্গিত নেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিজেপি শাসিত ওই রাজ্যে।
মণিপুরে যুযুধান মেইতেই ও কুকি জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সংগঠন ইতোমধ্যেই বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে। এমনকি, কুকিরা পৃথক রাজ্যের দাবিও তুলেছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ওই দাবিতে ইন্ধন জুগিয়েছেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপির সহযোগী দল মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্টের প্রধান জোরামথাঙ্গা।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা