calendar_today সোমবার, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
কুরআন প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে জাকারিয়াপ্রথম বাংলাদেশি , আনন্দে মাতোয়ারা তার গ্রাম ◆ সরকার উৎখাতের চেষ্টায় কী পেল আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে সাত দশকের ? ◆ ইউনূস আমলের ১৮ মাস: উঠেছে যেসব গুরুতর আইনি প্রশ্ন ◆ আধুনিক ও সবুজ ঢাকা গড়তে একসঙ্গে কাজ করবে এবিজি-ডিএনসিসি ◆ আইসিসিবিতে সেপ্টেম্বর থেকে ‘সুপার সেল কার বাজার’ ◆ মরিনহোর জাদুতে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় কোর্তোয়া ◆ ​শিক্ষকতা থেকে রাজনীতি: সততা ও ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত ◆ ব্যাংক খাত সংস্কার ও পুনঃমূলধনীকরণের উদ্যোগ ‎এডিবির সহায়তায় ◆ সালাহউদ্দিন আহমেদ এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ◆ নিঝুম দ্বীপের বালির ২৫ শতাংশই ভারী খনিজ ◆ এবার জেন আলফার আন্দোলনে উত্তাল ভারত,জেন জি’র পর ◆ ফ্যাসিস্ট’ তকমার আড়ালে কি চাপা পড়ছে ইতিহাসের প্রশ্ন?
home হোম / জাতীয় / এক দফা আন্দোলনেই আদায় হবে
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন

এক দফা আন্দোলনেই আদায় হবে

প্রায় ১৭ বছর ধরেই ক্ষমতার বাইরে, দেড় লাখ মামলা, এসব মামলায় প্রায় ৫০ লাখ আসামী, অসংখ্য নেতাকর্মী কারাবন্দী, একের পর এক হামলা, নির্যাতন। কিন্তু কোন কিছুই আর ভাবাচ্ছে না বিএনপিকে। বরং অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে দলটি এখন অনেক...

person
স্টাফ রিপোর্টার verified
Junior Reporter
schedule প্রকাশ: রবিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৩ • সকাল ১০:৩৪
history আপডেট: ৩ বছর আগে
timer ১৩ মিনিট পড়ার সময়
visibility ৬৩ বার পঠিত

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ আমাদের স্বাধীনতার সব অর্জনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশের গণতন্ত্র, অর্থনীতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিচারব্যবস্থা সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। বিচারালয়ের ওপর ভর করে মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় আমাদের নেতাকর্মীদের সাজা দিচ্ছে। অসংখ্য নেতাকর্মীর ওপর হামলা, মামলা, গ্রেফতা করা হচ্ছে। কিন্তুতাতে কি আন্দোলন বন্ধ করা যাবে? যতই নির্যাতন করুক, কারাগারে ঢোকাক, আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের অধিকার ফিরিয়ে এনে আমরা ঘরে ফিরব। স্পষ্ট কথা বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। আমাদের এক দফা দাবি সংসদ ভেঙে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে তাদের অধীনে নির্বাচন হবে। এছাড়া অন্য কোন বিকল্প পথ নেই।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, দলটির নীতিনির্ধারণী নেতারা বিশ্বাস করেন যে, দেশি-বিদেশী কোন চাপেই সরকার বিএনপির দাবি মেনে নেবে না। তাই দাবি আদায় করতে হলে রাজপথ দখলের কোন বিকল্প নেই। এজন্য দলটি আন্দোলনের কৌশলও সাজাচ্ছে সেভাবে। বিশেষ করে ঢাকা কেন্দ্রিক একের পর এক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থেকে সরকারকে চাপে ফেলতে চায় দলটির নেতাকর্মীরা। এক্ষেত্রে সুষ্ঠু নির্বাচন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহিংস ভূমিকা না নেয়ার জন্য যে বিদেশী রাষ্ট্র ও সংস্থাগুলোর চাপ রয়েছে সেটিকে সহায়ক হিসেবেই বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। দলের নেতারা মনে করেন, সময় যতই গড়াবে আন্দোলনের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে। ফলে এক দফার আন্দোলন একটি পরিণতিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই ক্ষমতাসীন সরকারকে বিদায় জানাতে চাই। কিন্তু ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে যে কোন আন্দোলন একটা পর্যায়ে চূড়ান্ত মাত্রায় রূপ নেয়। তিনি বলেন, সরকার দেশকে যে অবস্থার দিকে নিয়ে গেছে, এই অবস্থায় গণআন্দোলনের মাধ্যমে, জনতার প্রচ- চাপে সরকার দাবি মানতে বাধ্য হবে।

বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, দলের ভেতরে আলোচনা হচ্ছে- এবার যদি না হয় তাহলে কারো অস্তিত্ব থাকবে না। কারণ দলের সিনিয়র নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের অনেক নেতার মামলা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে কোনভাবেই যদি এই সরকার আবার টিকে যায় তাহলে দলের অনেক নেতাকর্মী অনির্দিষ্টকালের জন্য কারাবন্দী হতে হবে। তাই নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায়, নিজেদের বাঁচার জন্য হলেও রাজপথে প্রাণপণ লড়াই করতে হবে। এক্ষেত্রে কারো যদি কোন শিথিলতা পরিলক্ষিত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে সাথে সাথেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যেমনটি সর্বশেষ ছাত্রদল সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণের ক্ষেত্রে নেয়া হয়েছে। এটির মাধ্যমে মূলত অন্যান্য নেতাদের বার্তা দেয়া হয়েছে এবার কোনকিছুতেই ছাড়া দেয়া হবে না। পদ-পদবী দখল করে ঘরে বসে থাকার কোন সুযোগ নেই। দায়িত্ব নিলে মাঠে থাকতেই হবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, একটা বিশ্বাস রাখতে পারেন এই বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরুতে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচন এই সরকারের অধীনে হবে না। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে আজ গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামী লীগ কি বলল, কি ভাবলো, কি করলো এই নিয়ে দেশবাসীর কোন চিন্তা করে না।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বেগম জিয়াকে অন্যায়ভাবে বন্দী করে রেখেছে। বিচারের নামে তার উপর প্রহসন করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে বিদেশে থাকতে বাধ্য করছে। তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান একটি সুনামধন্য পরিবারের সন্তান তিনি কোন রাজনৈতিকের সাথে জড়িত নয়, কোন সংগঠনের সাথে জড়িত না। তার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে, বিচার করে জেলখানায় ঢোকানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এসব করে লাভ হবে না। সরকারকে বিদায় নিতেই হবে, বিদায়ের সময় চলে এসেছে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকী সাড়ে ৪ মাস। সরকারী দল আওয়ামী লীগ ঘোষণা দিয়েছে সংবিধান অনুযায়ী বিগত দুটি (২০১৪ ও ২০১৮) নির্বাচনের মতো এবারও ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। তবে এই সরকারের অধীনে যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়না সেটি প্রমাণিত দাবি করে বেশ কিছুদিন ধরেই সব ধরণের নির্বাচন বর্জন করে আসছে বিএনপি। এর বিপরীতে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন দলটির নেতাকর্মীরা। ধাপে ধাপে সেই আন্দোলন এখন এক দফার (সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার) আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়েছে। গত ১২ জুলাই নয়াপল্টনের সমাবেশ থেকে এক দফা দাবি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দাবি আদায়ে রাজধানীসহ সারাদেশে ১৮ ও ১৯ জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছে। এরপর ২৮ জুলাই নয়াপল্টনের সমাবেশে লাখো মানুষ অংশগ্রহণ করে। সেখান থেকে ২৯ জুলাই ঢাকার ৪টি প্রবেশ মুখে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সেই কর্মসূচিতে প্রত্যাশিত উপস্থিতি দেখাতে ব্যর্থ হয় বিএনপি। যদিও ধোলাইখালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী পুলিশের হামলায় আহত হন এবং মাতুয়াইলে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই দিনের কর্মসূচিতে ব্যর্থতার কারণে ইতোমধ্যে ছাত্রদল সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণকে সরিয়ে রাশেদ ইকবাল খানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়েছে। মহানগর যুবদলে আনা হয়েছে নতুন নেতৃত্ব। গুঞ্জন রয়েছে ঢাকা মহানগর বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি নিয়েও নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে হাইকমান্ড থেকে। বিএনপি সূত্রে জানা যায়, ২৯ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে ব্যর্থতার কারণে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের প্রতি ক্ষুব্ধ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায়ও। ব্যর্থতার কারণে অনেকেই বিএনপি প্রধানের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন। অঙ্গীকার করেছেন আগামীদিনে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখার। এরফলে গত ১১ আগস্ট গণমিছিলে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ঢল নামে।

ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান বলেন, আমাদের অভিভাবক, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা যেকোন আন্দোলন-সংগ্রামে সর্বোচ্চ উজার করে দিতে প্রস্তুত আছে। যখন যে নির্দেশনা আসবে ছাত্রদল সামনের সারিতে থেকে সেটি বাস্তবায়ন করবে। প্রয়োজনে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা জীবন দিয়ে হলেও এক দফার আন্দোলন সফল করবে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, শান্তিপূর্ণ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে, মিছিল মিটিংয়ের মধ্য দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন আমরা হতে দেব না, দেব না, দেব না। যতক্ষণ না নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা হয়, শেখ হাসিনা পদত্যাগ না করে। নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই আমরা করব, এটা আমাদের অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, জনগণ আজ রাজপথে নেমেছে। গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বে না। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার পতন ঘটাতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের আওয়ামী লীগের পতন ঘটাতে হবে। আমার আপনার সন্তানের নিরাপত্তার জন্য তার পতন ঘটাতে হবে, না হলে এই দেশে আর কেউ কথা বলতে পারবে না। চিরদিনের জন্য বাংলাদেশের জনগণ বন্দি হয়ে যাবে শেখ হাসিনার কাছে। এই বন্দিত্ব থেকে আমাদেরকে মুক্ত হতে হলে তার পতন ঘটাতেই হবে।


tag ট্যাগ: #1111