প্রখ্যাত পানিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত ইনকিলাবকে বলেন, ঢাকার ৪টি নদী ও ৪৭টি খাল এ মহানগরীর পানি নিষ্কাশনে বিশেষ ভূমিকা রাখত। কিন্তু এসব নদী খাল ভারাট করে অবৈধ দখল হচ্ছে। রাজধানীর অনেক খাল এখন অস্তিত্বহীন। এছাড়া প্রাকৃতিক পানির যেসব উৎস ছিল তুরাগের পাড়ে, যেমন আশুলিয়ায় ছোট বড় বিল, ভরাট করে হাউজিং কম্পানিগুলো বিল্ডিং করছে। এদিকে বালু নদীর আশপাশে রামপুরার পূর্ব থেকে সেই রূপগঞ্জ পর্যন্ত সব ডোবা বিল ভরাট হয়ে গেছে। এর ফলে বৃষ্টি হলে ঢাকার পানি সহজে নামতে পারছে না। কোথায় যাবে পানি, যাওয়ার তো জায়গা নেই। বুড়িগঙ্গা শীতলক্ষ্যাও মৃতপ্রায়। তারপরও এসব নদী হয়ে কিছু পানি আড়িয়াল বিলে গিলে জায়গা নিত। এখন যদি সেই আড়িয়াল বিলও ভরাট হয়ে যায় তাহলে একটু বৃষ্টিতেই ঢাকা ডুবে যাবে। আড়িয়াল বিল ভরাট ও দখল বন্ধের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্ট। এ নির্দেশনা যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়। তা না হলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে।
সামান্য বৃষ্টিতে রাজধানীর অলিগলি পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। পানিবদ্ধতায় নাকাল হতে হচ্ছে নগরবাসীকে। অথচ প্রতি বছরই পানিবদ্ধতা নিরসনে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেয় সরকার। বছর বছর অর্থ বরাদ্দের পরিমাণও বাড়ে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। ক্ষেত্রবিশেষে ভোগান্তির পরিমাণ আরো বাড়ে। সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থা গত ১২ বছরে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় করলেও এ টাকা পানিতেই গেছে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।