ব্রিকসে যোগ দেওয়া নিয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের বিষয়ে চিঠি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, যখন জেনেভাতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন ব্রিকসে আমন্ত্রণ জানাবেন। ব্রিকসের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে নতুন ছয় সদস্যের মধ্যে বাংলাদেশ হয়তো ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশ নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে সক্রিয়ভাবে আছে। সামনে আরও সদস্য নেওয়া হবে। আশা করা হচ্ছে, সামনের বার বাংলাদেশ থাকবে।
এবারের শীর্ষ সম্মেলনে ইথিওপিয়া সদস্য হলেও বাংলাদেশ কেন পারেনি– জানতে চাইলে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘এখানে রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক অনেক বিষয় রয়েছে। এখানে ভারসাম্যের একটি বিষয় রয়েছে। লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা, উত্তর আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য থেকে একটি করে দেশ নিয়েছে। বাংলাদেশের আশপাশে আরও দেশ ছিল, যারা আগ্রহী ছিল, তারাও সদস্য হতে পারেনি। এতে আশাহত হওয়ার কিছু নেই।’
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ছয় বছর পার হয়েছে। আমরা তো চাইব শিগগিরই রোহিঙ্গা যাওয়া শুরু হোক। রোহিঙ্গারা ফেরত যেতে চায়। সেপ্টেম্বর থেকে প্রত্যাবাসনের চেষ্টা করা হবে। মিয়ানমারে দুই দেশের মহাপরিচালক পর্যায়ে বৈঠক হওয়ার কথা। কিছু রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারকে দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমার যদি এ তালিকার বিষয়ে সবুজ সংকেত দেয়, তাহলে এ থেকে রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানো হবে।
ডিসেম্বরের আগে প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আশা রাখি। সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল মিয়ানমারে সরেজমিন দেখে আসবে। এরপর মিয়ানমার থেকে একটি দল আসবে। দলটি রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলবে তাদের আস্থা বাড়ানোর জন্য।
কত রোহিঙ্গার তালিকা দেওয়া হয়েছে– এ প্রশ্নের উত্তরে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, বাংলাদেশ তিন হাজারের ওপর রোহিঙ্গার একটি তালিকা দিয়েছে। এর মধ্যে পরিবার যাতে আলাদা না হয়, সে বিষয়ে খেয়াল রাখা হবে। সেই সঙ্গে একই এলাকার রোহিঙ্গারা যাতে যেতে পারে, তাও খেয়াল রাখা হবে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। সফরের তারিখ স্থির করা নিয়ে কাজ চলছে।