জানা যায়, ৪ হাজার ৯৬.৭ কিলোমিটার বিস্তৃত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এবং ৩ হাজার ৩২৩ কিলোমিটার বিস্তৃত ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে প্রহরারত বিএসএফ সৈন্যদের জন্য এই কম্পোজিট বিওপি খুবই সহায়ক হবে। বিওপি এলাকায় আবাসন নির্মাণ, লজিস্টিক সহায়তা এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সহ অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়াতে পরিকাঠামো প্রদান করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মঙ্গলবার সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, এই কম্পোজিট বিওপি নির্মাণ একদিকে যেমন বিএসএফের সদস্যদের ভাল কাজের পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করবে অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাহিনীর আধিপত্যকে শক্তিশালী করবে। কারণ সুযোগ-সুবিধা এবং অবকাঠামোর দিক থেকে একটি সাধারণ বিওপির থেকে কম্পোজিট বিওপি সম্পূর্ণ আলাদা। আন্তর্জাতিক সীমান্তে বিএসএফের প্রধান ওয়ার্কস্টেশনই হলো এই বিওপিগুলো।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২২-২৩ সালের বার্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যে ৪ হাজার ৯৬.৭ কিলোমিটার স্থল সীমান্ত রয়েছে, তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ (২ হাজার ২১৬.৭ কিমি), ত্রিপুরা (৮৫৬ কিমি), মেঘালয় (৪৪৩ কিমি), মিজোরাম (৩১৮ কিমি) এবং আসাম (২৬৩ কিমি) স্পর্শ করেছে। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল এবং ঘন জঙ্গল ও নদীতে ঘেরা এই বিস্তীর্ণ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ, চোরা চালান, মাদক পাচার সহ একাধিক সীমান্ত নাশকতার অভিযোগ আছে। এই সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে ১ হাজার ৯৬টি বিওপি রয়েছে।
অন্যদিকে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে মোট ৭৩৬টি বিওপি স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়, এর মধ্যে ৬৭৫টি বিওপি নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ৩১টি বিওপির কাজ চলমান রয়েছে, ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে এর কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি ৩০টি বিওপির জন্য বিকল্প স্থান অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের ৩ হাজার ৩৩২ কিলোমিটার স্থল সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্তটি রয়েছে গুজরাট, রাজস্থান, পাঞ্জাব, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সঙ্গে। এসব সীমান্ত দিয়ে সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা এবং অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং মাদক চোরাচালানের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।