বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হামাসের হামলা ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া দুই বিষয়টিই আগের সংঘাতগুলোর মাত্রা ও ধরনকে ছাড়িয়ে গেছে।
লামসা মাস্টার স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ বিষয়ের অধ্যাপক মাত্তেও ব্রেসান বলেন, ৭ অক্টোবর থেকে আমরা যা দেখেছি, তা এক নতুন ধরনের হাইব্রিড যুদ্ধ। হামাস ইসরায়েলে ছয় হাজার রকেট নিক্ষেপ করে। এই সংখ্যাটি হামাসের নজিরবিহীন সামরিক সক্ষমতার পরিচয়। এখানে প্রশ্ন হলো, হামাস কীভাবে ২০টি ভিন্ন ভিন্ন গ্রামে ২০টি যুগপৎ হামলা চালাতে সক্ষম হলো? এর অর্থ, হামাস এর জন্য প্রশিক্ষণ পেয়েছে ও প্রস্তুতি নিয়েছে। এবার আর বিষয়টি সহজ-সরল নেই।
মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের কমান্ডার ডিমেট্রিয়াস অ্যান্ড্রু গ্রাইমস বলেন, হামাস এই যুদ্ধের জন্য দীর্ঘসময় ধরে প্রস্তুতি নিয়েছে। তিনি হামাসকে নিশ্চিহ্ন করার ইসরায়েলি লক্ষ্যমাত্রাকে অত্যন্ত কঠিন বলে অভিহিত করেন।
হামাস দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের বেশ কিছু ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করেছে। তবে গ্রাইমস মনে করেন, সংঘাতের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েলের অসংখ্য সেনা নিহত হয়েছে, এটি দেশটির সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ইসরায়েলের সঙ্গে বহির্বিশ্বের বন্ধুত্বে ফাটল
গত সপ্তাহের পুরোটা সময় ইসরায়েল আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের কাছ থেকে আসা ‘মানবিক কারণে’ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে অস্বীকার করেন নেতানিয়াহু। তবে গত শুক্রবার তিনি তাঁর এই অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসতে বাধ্য হন।
ইসরায়েল শর্ত দিয়েছে, হামাসের হাতে বন্দি জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হলে তারা যুদ্ধবিরতির বিষয়টি বিবেচনা করবে। গাজায় ত্রাণসামগ্রী প্রবেশেও খানিকটা নমনীয় হয়েছেন নেতানিয়াহু। শুরুতে অল্প কয়েক ট্রাক খাবার, পানি ও ওষুধ প্রবেশের অনুমতি দেন তিনি। তবে ৩১ অক্টোবর তিনি দিনে ১০০ ট্রাক ত্রাণ প্রবেশে সম্মতি জানান।