জানা গেছে, মানবাধিকার দিবসে বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের সার্বিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নিপীড়নের চিত্র গণতান্ত্রিক বিশ্বের কাছে তুলে ধরবে বিএনপি। দলটির নেতাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে আগে থেকেই ওয়াকিবহাল গণতান্ত্রিক বিশ্ব বিশেষ করে পশ্চিমারা তাদের ভূমিকা শিগগিরই আরো জোরালো করবে।
আগামীকাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে ঢাকাসহ সারা দেশের জেলা পর্যায়ে মানববন্ধনের কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি ও যুগপতে থাকা মিত্ররা। সরকার যে মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন ঘটিয়ে একতরফা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তা পশ্চিমাসহ আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাছে ফের তুলে ধরবে তারা। একইসাথে হরতাল-অবরোধের সাময়িক বিকল্প হিসেবে এ ধরনের কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়াতে চায় বিরোধীরা।
জানা গেছে, নির্বিঘে্ণ এ মানববন্ধন সম্পন্ন করতে পারলে ব্যাপক সমাগম হয়, এমন কর্মসূচি শিগগিরই আরো ঘোষণা করা হতে পারে। অন্যথায় ফের হরতাল-অবরোধের কর্মসূচিতে ফিরবে বিএনপি ও যুগপতের শরিকরা। এ জন্য গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশের পরে অনুষ্ঠিতব্য দলের এই কর্মসূচিকে ঘিরে সরকারের আচরণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপি। এ দিন ঢাকায় মানববন্ধন হবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বেলা ১১টায়। কর্মসূচিতে দলের নেতাকর্মীরা ছাড়াও কারাবন্দী এবং গুম-খুন পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করবেন। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপি ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এছাড়া ঢাকার বাইরে অন্যান্য জেলাগুলোও প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
জানা গেছে, ঢাকায় কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমানের মতো সিনিয়র নেতারা থাকবেন। তবে কৌশলের অংশ হিসেবে মামলা ও পরোয়ানা থাকা নেতাকর্মীরা মানববন্ধনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন।
বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে যে মানবাধিকার নেই, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে সেটা প্রতিষ্ঠিত করাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সরকারের দিক থেকে কোনো বাধা-বিপত্তি আসলে তা প্রতিহত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে এই মানববন্ধন কর্মসূচি সফল করতে হবে। ঢাকাসহ সারা দেশের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বলব- যেসব পরিবার নিপীড়ন-নির্যাতন, গুম-খুনের শিকার হয়েছে- সে সব পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসে আপনারা মানববন্ধনে উপস্থিত করবেন।’