উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির সংবাদপত্র রডং সিনমুন মঙ্গলবার এই সফর উপলক্ষে দেওয়া পুতিনের একটি চিঠি প্রকাশ করেছে। সেখানে পুতিন লিখেছেন, ‘পশ্চিমা বিশ্ব বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে একতরফা ও অবৈধ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে, তার বিপরীতে আমরা একটা বিকল্প বাণিজ্য পদ্ধতি ও পারস্পরিক সমঝোতায় পৌছতে পারব। একই সঙ্গে আমরা ইউরেশিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সমতার ভিত্তিতে একটা রণকৌশল তৈরি করতে পারব।’
এই চিঠিতে তিনি একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সমর্থন দেওয়ার জন্য উত্তর কোরিয়াকে ধন্যবাদ জানান। সেই সঙ্গে বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে চাপ প্রয়োগ করছে, ব্ল্যাকমেইল করছে এবং অব্যাহতভাবে সামরিক হুমকি দিয়ে যাচ্ছে, সেটি প্রতিরোধে রাশিয়া পিয়ংইয়ংকে সমর্থন দিয়ে যাবে।’
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা ‘এই দুই দেশের মধ্যে গভীর সম্পর্ক’ নিয়ে উদ্বিগ্ন।
ক্রেমলিন এই সফরকে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফর’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
রাশিয়ান গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, পুতিন ও কিম নিরাপত্তা চুক্তিসহ নানা ধরনের অংশীদারী চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারেন এবং মিডিয়াকে যৌথ বিবৃতি দেবেন।
জানা গেছে, পুতিন পিয়ংইয়ংয়ের কুমসুসান গেস্টহাউসে থাকবেন, যেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০১৯ সালে উত্তর কোরিয়ায় তার রাষ্ট্রীয় সফরের সময় অবস্থান করেছিলেন।
পুতিন তার নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভের সঙ্গে আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাকও প্রতিনিধি দলে থাকছেন।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম গত সপ্তাহে বলেছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক ‘অটুট বন্ধন’-এ পরিণত হয়েছে।