রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার (১৭ আগস্ট) এক বিবৃতিত বলেছে, ইউক্রেন কুরস্ক পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করার পাশাপাশি এ ধরনের একটি ‘উস্কানি’র দায় মস্কোর ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।
বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, ইউক্রেন ওই স্থাপনায় হামলা চালালে রাশিয়া কঠোরভাবে তার জবাব দেবে।
তবে রাশিয়ার এই ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে ইউক্রেন।
এ বিষয়ে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিওরহি টাইখ্যি বলেন, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই মিথ্যা প্রতিবেদনগুলোকে খণ্ডন করি। ইউক্রেনের এই ধরনের কোনো কাজ করার ইচ্ছা নেই। রাশিয়াকে অবশ্যই বিপজ্জনক মিথ্যা ছড়ানো বন্ধ করতে হবে।
এর আগে কুরস্ক পারমাণবিক স্থাপনাকে যেকোনো দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় দেশকে সর্বোচ্চ ধৈর্যধারণের আহবান জানান আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি।
রাশিয়ায় যে তিনটি বৃহৎ পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে সেগুলোর মধ্যে কুরস্ক অন্যতম। এটিতে মোট ছয়টি চুল্লি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে দু’টি চুল্লি বন্ধ রয়েছে, দু’টি নির্মাণ করা হচ্ছে এবং অবশিষ্ট দু’টি পূর্ণ মাত্রায় জ্বালানি উৎপাদন করছে।
গেলো সপ্তাহে ইউক্রেন সীমান্ত থেকে রাশিয়ার প্রায় ৩০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে অবস্থিত কুরস্ক অঞ্চল দখল করে নেয় কিয়েভ সেনারা। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম রাশিয়ায় বড় ধরনের সাফল্য পেলো কিয়েভ।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর এ পর্যন্ত টানা ৯০৫ দিনের মতো চলছে এই যুদ্ধ। এতে দুই পক্ষের বহু সেনা ও বেসামরিক নাগরিক হতাহত হলেও এখন পর্যন্ত এ যুদ্ধ বন্ধের কোনো লক্ষণ নেই।