৯ আগস্ট কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন এক শিক্ষানবিশ চিকিৎসক। এর পর থেকেই বিক্ষোভ চলছে কলকাতাজুড়ে। এর মধ্যে গতকাল ‘নবান্ন অভিযান’ কর্মসূচি ঘোষণা করে ‘পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রসমাজ’। তাদের দাবি, চিকিৎসককে ধর্ষণ-হত্যার ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।
হাওড়ায় অবস্থিত ১৮ তলার ‘নবান্ন’ ভবন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সচিবালয় হিসেবে ব্যবহার হয়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তার কার্যালয়ও রয়েছে। গতকাল দুপুরের পর থেকে মিছিল নিয়ে সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা করে বিক্ষোভকারীরা। তারা বিভিন্ন সড়ক দিয়ে এগোতে থাকে। কিন্তু সচিবালয় অভিমুখী সব সড়কে আগে থেকেই কঠোর অবস্থানে ছিল পুলিশ। বিক্ষোভকারীরা যেন সচিবালয় পর্যন্ত যেতে না পারে, সেজন্য নেয়া হয় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বড় বড় ব্যারিকেড তৈরি করা হয় সাঁতরাগাছি, হাওড়া ময়দান, ফোরশোর রোড, লক্ষ্মীনারায়ণতলা ও মন্দিরতলায়। নবান্নের আশপাশে গলির মুখগুলো ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। জলকামান ও ড্রোনের ব্যবস্থাও ছিল। কলেজ স্ট্রিট, এজেসি বোস রোডসহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনকারীদের আটকাতে ক্রেনের মাধ্যমে কনটেইনার নামায় পুলিশ।
বিক্ষোভকারীরা এসব বাধা অতিক্রম করে সচিবালয় অভিমুখে যেতে চাইলে সংঘর্ষ বেধে যায়। পুলিশ জলকামানের পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। লাঠিচার্জও করা হয়। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ইটের আঘাতে আহত হন একাধিক পুলিশ সদস্য। বাবুঘাটে পুলিশের দুটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামানের কারণে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়। অনেক জায়গায় বিক্ষোভকারীদের সড়কে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
গতকাল সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নবান্ন অভিযান থেকে ২২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করেছে ১২৬ জনকে। রাজ্য পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে ৯৪ জন।
সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণবঙ্গ পুলিশের এডিডি সুপ্রতিম সরকার বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু আমরা দেখলাম অশান্তিপূর্ণ একটি আন্দোলন। এ আন্দোলন কখনো বাংলার প্রকৃত ছাত্রসমাজের হতে পারে না।’
এদিকে নবান্ন অভিযান শেষ হওয়ার পরই ১২ ঘণ্টার বন্ধ কর্মসূচির ডাক দেয় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আজ ভোর ৬টায় এ ধর্মঘট শুরু হয়। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘নবান্ন অভিযানে পুলিশের অত্যাচারের প্রতিবাদ হিসেবে ধর্মঘট পালন করা হবে। তবে ধর্মঘট পালন না করতে পশ্চিমবঙ্গের জনসাধারণকে আহ্বান জানিয়েছে মমতা সরকার। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সবাই যেন জনজীবন স্বাভাবিক রাখে। ধর্মঘট অমান্যের ফলে ক্ষতি হলে সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে।’
পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, ছাত্রদের এ বিক্ষোভের পেছনে বিজেপির হাত রয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীরা বলছে, এটা ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ