বাংলাদেশের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস ওয়াশিংটনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বহুমাত্রিক সহায়তার ক্ষেত্রে কক্সবাজারের ক্যাম্পে বসবাসরত দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাদের আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো। অন্তর্র্বতী সরকার আমূল সংস্কার কার্যক্রম সম্পাদনের দায়িত্ব নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের এই কূটনীতিককে বলেন, ‘একটি যৌক্তিক সময় পরে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে বন্যাদুগর্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দাতাগোষ্ঠীকে একটি ‘কমন প্ল্যাটফর্ম’ গঠন এবং সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। হেলেন লাফেভ বাংলাদেশের শ্রম পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘুদের বিষয় নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক ‘সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত’ এবং অন্তর্বর্তী সরকার সব নাগরিকের মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাক্ষাৎকালে মানবাধিকার ইস্যু, সাইবার সিকিউরিটি আইন, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও বিভিন্ন পারস্পারিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জানান, ন্যায়বিচার নিশ্চিতের লক্ষ্যে তার সরকার বাংলাদেশে একটি প্রসিকিউটোরিয়াল সার্ভিস স্থাপনে সহায়তা করার চেষ্টা করছে।
প্রধান উপদেষ্টার যুক্তরাষ্ট্র সফরের বহর হবে ছোট : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিউইয়র্কে যাবেন। যাদের কাজ আছে শুধু তাদের একটি ছোট বহর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন প্রধান উপদেষ্টা। গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ কথা বলেন পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
তৌহিদ হোসেন বলেন, মোটামুটি একটা ছোট প্রতিনিধি দল যাবে। আমরা বিশাল প্রতিনিধি দল নিয়ে যাবো না। তিনি যত কম সময়ে ওখানে কাজ শেষ করতে পারবেন সেই চেষ্টা করবেন। যাওয়া-আসার সময় মিলিয়ে এক সপ্তাহের বেশি না।
প্রতিনিধি দলে কারা থাকছেন এবং সংখ্যাটা কত জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, চূড়ান্ত সংখ্যাটা আজ আমি বলতে পারবো না। এটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে একটা ছোট প্রতিনিধি দল যাবে, খুব বড় না। একেবারে ফাংশনাল, যাদের প্রয়োজন আছে। সাধারণত যাদের কাজ আছে, শুধু তারাই যাবেন। ডেলিগেশন ছোট হবে, খুব বড় হবে না।