calendar_today সোমবার, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
কুরআন প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে জাকারিয়াপ্রথম বাংলাদেশি , আনন্দে মাতোয়ারা তার গ্রাম ◆ সরকার উৎখাতের চেষ্টায় কী পেল আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে সাত দশকের ? ◆ ইউনূস আমলের ১৮ মাস: উঠেছে যেসব গুরুতর আইনি প্রশ্ন ◆ আধুনিক ও সবুজ ঢাকা গড়তে একসঙ্গে কাজ করবে এবিজি-ডিএনসিসি ◆ আইসিসিবিতে সেপ্টেম্বর থেকে ‘সুপার সেল কার বাজার’ ◆ মরিনহোর জাদুতে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় কোর্তোয়া ◆ ​শিক্ষকতা থেকে রাজনীতি: সততা ও ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত ◆ ব্যাংক খাত সংস্কার ও পুনঃমূলধনীকরণের উদ্যোগ ‎এডিবির সহায়তায় ◆ সালাহউদ্দিন আহমেদ এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ◆ নিঝুম দ্বীপের বালির ২৫ শতাংশই ভারী খনিজ ◆ এবার জেন আলফার আন্দোলনে উত্তাল ভারত,জেন জি’র পর ◆ ফ্যাসিস্ট’ তকমার আড়ালে কি চাপা পড়ছে ইতিহাসের প্রশ্ন?
home হোম / আন্তর্জাতিক / জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সাহসী ও সম্মিলিত পদক্ষেপের প্রয়োজন : কপ২৯
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
আন্তর্জাতিক বিশেষ প্রতিবেদন

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সাহসী ও সম্মিলিত পদক্ষেপের প্রয়োজন : কপ২৯

জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে ধনী রাষ্ট্রগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর সহায়তার কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি ছাড়াই কপ২৯ সম্মেলনে প্রবেশ করেছে। আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য বছরে কমপক্ষে ১...

person
বিশেষ প্রতিনিধি verified
Reporter
schedule প্রকাশ: বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০২৪ • বিকাল ০৩:৪৪
history আপডেট: ১ বছর আগে
timer ১৩ মিনিট পড়ার সময়
visibility ১০২ বার পঠিত

যুক্তরাজ্য ও ব্রাজিল জলবায়ু অর্থায়নের চুক্তির একটি ‘ল্যান্ডিং জোন’ খুঁজে বের করতে কাজ করছে। এই জোনের মূল উদ্দেশ্য হল উন্নত দেশগুলোর বাজেট থেকে তহবিলের সুনির্দিষ্ট অংশ নিশ্চিত করা, বেসরকারি খাতের ভূমিকা এবং চীন ও সৌদি আরবের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর অবদান নির্ধারণ করা। পাশাপাশি, লক্ষ্য অর্জনের সময়সীমা ও তহবিলের ব্যবহারের নিয়মাবলী চূড়ান্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৮ নভেম্বর সোমবার অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন জানান, চুক্তির কাঠামো তৈরি একটি চারমাত্রিক জিগস পাজলের মতো জটিল। এতে উন্নয়নশীল দেশগুলো কতটুকু তহবিল পাবে এবং কীভাবে এটি প্রদান করা হবে সেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত। ধনী দেশগুলোর সহযোগিতার পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক ও বেসরকারি খাতের ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘের জলবায়ু প্রধান ইমন স্টিয়েল মন্ত্রীদেরকে ‘নাটকীয়তা’ বাদ দিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জলবায়ু অর্থায়ন কোনো দাতব্য নয়; বরং এটি সবার স্বার্থের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি, দরিদ্র দেশগুলোর জন্য একটি নির্ভরযোগ্য তহবিল গঠনের মাধ্যমে তাদের অর্থনীতি ও জনগণকে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষা করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। পাকিস্তানের সাবেক পরিবেশমন্ত্রী শেরি রেহমান বিশ্ব নেতাদের সংকট মোকাবিলায় বৃহত্তর লক্ষ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দরিদ্র দেশগুলোর জন্য অনুদানভিত্তিক অর্থায়নের অভাব তাদের ঋণ সংকটকে আরও বাড়াবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একই সঙ্গে জীবন ও মৃত্যুর প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে কপে এসেছি’। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতার কারণে জলবায়ু সংকট সৃষ্টির দায় উন্নত দেশগুলোর ওপর বর্তায় বলে থিঙ্কট্যাঙ্ক পাওয়ার শিফট আফ্রিকার মোহাম্মদ আদো মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) কপ ২৯-এ বাংলাদেশ পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ২০৩০ পর্যন্ত অপেক্ষা করা সম্ভব নয়। উন্নত দেশগুলোর দ্রুত গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস এবং প্যারিস চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুইটি ভয়াবহ বন্যায় ১৭০ কোটি ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, যা জাতীয় বাজেটের ১.৮%। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে ২২% নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যার জন্য ৪৫ বিলিয়ন ডলার নিজস্ব তহবিল এবং ১৩৫ বিলিয়ন ডলার আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, মিটিগেশন ওয়ার্ক প্রোগ্রামকে এলডিসিগুলোর শর্তযুক্ত এনডিসি লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক সম্পদ ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার যে আন্তর্জাতিক লক্ষ্য প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা এখন কার্যত অপ্রাপ্তিযোগ্য। বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার মধ্যে তিনটিই পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ২০২৪ সাল প্রাকশিল্প যুগের তুলনায় অন্তত ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ হতে পারে। এটি বৈশ্বিক রেকর্ডে সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে ২০২৩ সাল এবং পূর্ববর্তী বছরগুলোর রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। গত দশ বছর ইতোমধ্যেই ইতিহাসের উষ্ণতম দশ বছর হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে তাপমাত্রা বৃদ্ধি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সীমা দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখা সম্ভব হবে না। বার্কলে আর্থের গবেষক এবং স্ট্রাইপের জলবায়ু গবেষণা বিভাগের প্রধান জেকে হাউসফাদার বলেন, ‘আমরা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা অতিক্রম করছি এবং এটি থামবে না যতক্ষণ না বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা যায়।’ বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা অতিক্রম করলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাবে, যা দরিদ্র এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা মনে করেন নির্গমন কমানোর পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত হ্রাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া এখন অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান অবস্থা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ধনী দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত বোঝা হবে না, বরং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ এবং জাতিসংঘের স্বাধীন উচ্চস্তরের বিশেষজ্ঞ গ্রুপ (ওঐখঊএ) বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার দরকার হবে, যা প্যারিস চুক্তির ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে এই অঙ্ক বিরাট মনে হলেও তা আসলে বিশ্ব অর্থনীতির মাত্র ১ শতাংশ। বর্তমানে বিশ্ব প্রতিবছর ৩ ট্রিলিয়নেরও বেশি জ্বালানি ব্যয়ে খরচ করে, যার বড় অংশ নবায়নযোগ্য শক্তিতে ব্যবহৃত হয়। চীন ব্যতীত সমস্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বল্পকার্বন নির্গমনের দিকে স্থানান্তরের জন্য প্রায় ২.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে, যার মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলার দেশের বাইরের উৎস থেকে আসা আবশ্যক। লস এন্ড ড্যামেজ তহবিলের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে ধনী দেশগুলোর সরকারি বাজেটের উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রায় অর্ধেক অর্থ বেসরকারি খাত থেকে আসতে পারে, যা সৌর ও বায়ু খামার নির্মাণের মতো প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে। বাকি অর্থ জীবাশ্ম জ্বালানির উপর কর আরোপ, প্লাস্টিক উৎপাদনে ব্যবহৃত পলিমারের উপর কর আরোপ এবং শিপিং কার্যক্রমের মতো নতুন নতুন উৎস থেকে অর্জিত হতে পারে। তবে বেসরকারি বিনিয়োগের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণ সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। এশিয়ান পিপলস মুভমেন্টের সমন্বয়কারী লিডি ন্যাকপিল বলেছেন, ‘ঋণের মাধ্যমে জলবায়ু অর্থায়ন অন্যায় এবং ঐতিহাসিক দায়িত্বের প্রতি অবমাননা। দরিদ্র দেশগুলোকে ঋণমুক্ত এবং শর্তহীন তহবিল সরবরাহ করা উচিত।’

জলবায়ু পরিবর্তন বৈশ্বিক সমস্যা হলেও এর প্রভাব দরিদ্র দেশগুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য এখন প্রায় অপ্রাপ্তিযোগ্য হয়ে উঠেছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই দুষ্ট চক্রকে বন্ধ করতে হলে উন্নত দেশগুলোকে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং দরিদ্র দেশগুলোকে শর্তহীন ও ঋণমুক্ত তহবিল প্রদানের লক্ষ্যে কার্যকারী পদক্ষেপ নিতে হবে। সঠিক নীতিমালা ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ধনী দেশগুলো তাদের দায়িত্ব পালন করে বৈশ্বিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। সম্মিলিত পদক্ষেপের মাধ্যমে ধনী দেশগুলো তাদের ঐতিহাসিক দায় শোধ করতে পারে এবং বিশ্বকে একটি টেকসই ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

tag ট্যাগ: #কপ২৯