কেন্দ্রশাসিত আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং লাক্ষাদ্বীপকে দাক্ষিণাত্যের নয়, দক্ষিণ ভারতের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। দাক্ষিণাত্যের রাজ্যগুলোর জলের উৎস কৃষ্ণা, কাবেরী, গোদাবরী, তুঙ্গভদ্রা ও ভাই গাই নদী। এই অঞ্চলের জনবহুল শহর হলো কোচি, কোয়েম্বটুর, চেন্নাই, বাঙ্গালুরু ও হায়দ্রাবাদ। দক্ষিণ ভারতের অধিকাংশ মানুষ কন্নড়, তামিল, তেলুগু ও মালয়ালম ভাষায় কথা বলেন। হিন্দি বলতেই চান না। বরং ইংরেজি বলায় ওঁরা সাবলীল। এখানে তুলনামূলকভাবে বিশেষ করে কেরালায় শিক্ষিতের হার বেশি।
মাগুরা হাসপাতাল ও কলেজের প্রীতিভাজন যশস্বী চিকিৎসকবৃন্দ, ডাক্তার অরুণ ঘোষের নেতৃত্বে দক্ষিণ ভারত ভ্রমণের আয়োজন করেন। ভ্রমণ স্থল দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি রাজ্য। ডাক্তার বাবুদের চাকরি ও পেশা বিবেচনায় বিমানে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিমানবন্দরে যাওয়া-আসা, দর্শনীয় স্থানে গমন শীততাপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে। থাকা ন্যূনতম তিনতারা হোটেলে। ভ্রমণ শুরু জানুয়ারি ২০, ২০১৯ এবং শেষ জানুয়ারি ২৯, ২০১৯। গন্তব্য স্থান: মাগুরা থেকে কোলকাতা হয়ে চেন্নাই; চেন্নাই থেকে ত্রিবান্দ্রাম; ত্রিবান্দ্রাম থেকে কোভেলাম; কোভেলাম থেকে কন্যাকুমারী; কন্যাকুমারী থেকে রামেশ্বরম হয়ে মাদুরাই; মাদুরাই থেকে বাঙ্গালুরু হয়ে কোলকাতা; এবং কোলকাতা থেকে পুনরায় মাগুরা।
বলাবাহুল্য, ট্রেনে বা বাসে গেলে উল্লিখিত অঞ্চলসমূহের সবিস্তার প্রাকৃতিক দৃশ্য, জনগণের ভাষা, আহার ও যাপিতজীবনের চিত্র তুলে ধরা সম্ভব ছিল। পুষ্পকরথে গেলে সেই সুযোগ খুব বেশি থাকে না। স্বল্পসময়ে বিমানে, বাসে, নৌকায় ৫৬৬৭ কিলোমিটার ভ্রমণকালে যা দেখেছি, অনুভব করেছি, তা এই রচনায় পরিবেশনের প্রয়াস নিয়েছি। ভ্রমণের প্রায় তিন চতুর্থাংশ উড়ালপথেই যেতে হয়েছিল।
ভ্রমণসাথী সর্বমোট ২৭ জন। মহিলাদের মধ্যে সর্বজ্যেষ্ঠ ডা. অরুণের মা সত্তরোর্ধ প্রয়াত বিনীতাদি, পুরুষদের মধ্যে ৮০ বছরের এই লেখক আর সর্বকনিষ্ঠ ডা. সঞ্জয় দত্ত ও বর্ণালী ঘোষের পুত্র সৌরদীপ। ২০ জানুয়ারি ২০১৯, রবিবার সকাল ৮টায় মাগুরা থেকে সাউথ লাইন এ.সি পরিবহণে কোলকাতার উদ্দেশে যাত্রা। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে যশোরে পৌঁছে বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে সংযোগকারী ঐতিহাসিক যশোর রোড ধরে বেনাপোলের দিকে চলতে থাকি। এককালে এই সড়ক ‘ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড়’ ছিল।