calendar_today সোমবার, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
কুরআন প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে জাকারিয়াপ্রথম বাংলাদেশি , আনন্দে মাতোয়ারা তার গ্রাম ◆ সরকার উৎখাতের চেষ্টায় কী পেল আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে সাত দশকের ? ◆ ইউনূস আমলের ১৮ মাস: উঠেছে যেসব গুরুতর আইনি প্রশ্ন ◆ আধুনিক ও সবুজ ঢাকা গড়তে একসঙ্গে কাজ করবে এবিজি-ডিএনসিসি ◆ আইসিসিবিতে সেপ্টেম্বর থেকে ‘সুপার সেল কার বাজার’ ◆ মরিনহোর জাদুতে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় কোর্তোয়া ◆ ​শিক্ষকতা থেকে রাজনীতি: সততা ও ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত ◆ ব্যাংক খাত সংস্কার ও পুনঃমূলধনীকরণের উদ্যোগ ‎এডিবির সহায়তায় ◆ সালাহউদ্দিন আহমেদ এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ◆ নিঝুম দ্বীপের বালির ২৫ শতাংশই ভারী খনিজ ◆ এবার জেন আলফার আন্দোলনে উত্তাল ভারত,জেন জি’র পর ◆ ফ্যাসিস্ট’ তকমার আড়ালে কি চাপা পড়ছে ইতিহাসের প্রশ্ন?
home হোম / জাতীয় / যমুনা রেলসেতু: ট্রেনযাত্রীদের গুনতে হবে বাড়তি ভাড়া, তিন মিনিটে নদী পার
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন

যমুনা রেলসেতু: ট্রেনযাত্রীদের গুনতে হবে বাড়তি ভাড়া, তিন মিনিটে নদী পার

যমুনা নদীর ওপর নির্মিত দেশের বৃহত্তম রেলসেতু দিয়ে সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করতে পারবে। তবে রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, তারা সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল নির্ধারিত করে দিয়েছে।

person
বাংলার ডাক verified
Staff reporter
schedule প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ মার্চ ২০২৫ • সকাল ১১:৩৭
history আপডেট: ১ বছর আগে
timer ১০ মিনিট পড়ার সময়
visibility ২৬৬ বার পঠিত

যমুনা রেলসেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ১৮ মার্চ, পরদিন থেকে ভাড়া বাড়বে ৪৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত। নতুন এই সেতু নির্মাণে প্রথমে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। বেড়ে হয়েছে ১৬ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা।

যমুনা নদীর ওপর নতুন রেলসেতু নির্মাণ করা হয়েছে। আগের সড়কসেতু দিয়ে আর রেল চলছে না। ফলে ট্রেনে যমুনা নদী পাড়ি দিতে সময় লাগছে দু–তিন মিনিট। আগে সেখানে সময় লাগত ২০ থেকে ২৫ মিনিট। অবশ্য দ্রুত নদী পাড়ি দিতে উত্তরের রেলযাত্রীদের বাড়তি ভাড়া গুনতে হবে। এই সেতু ব্যবহার করে চলা ট্রেনের আসনভেদে ভাড়া বাড়বে ৪৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত। ১৯ মার্চ থেকে বাড়তি ভাড়া কার্যকর হবে।

রেলওয়ে সূত্র বলছে, যমুনা রেলসেতুটির দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার। কিন্তু সেতুটিকে ১২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছে। অর্থাৎ সেতুটির প্রতি কিলোমিটার দূরত্বকে ২৫ কিলোমিটারে বাড়িয়ে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। অবশ্য যমুনা সড়কসেতু দিয়ে ট্রেন চলার সময়ও প্রতি কিলোমিটারকে ১৭ কিলোমিটার ধরে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন সেতুতে প্রতি কিলোমিটারে আট কিলোমিটার বেড়েছে।


বড় সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য টোল আদায় করা হয়। রেলওয়ে সেতুর টোল যাত্রীদের টিকিটে সরাসরি যুক্ত করে দেয়। আর এই বাড়তি অর্থ যুক্ত করার নির্দিষ্ট একটি পদ্ধতি অনুসরণ করে রেলওয়ে। একে রেলওয়ে ‘পন্টেজ চার্জের’ জন্য বাড়তি দূরত্ব বলছে, যা ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসছে।

রেলওয়ে সূত্র বলছে, নতুন সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ হিসেবে বাড়তি ভাড়া আদায়ের রেওয়াজ ব্রিটিশ আমল থেকে চালু আছে। এত দিন কোন সেতুতে কত বাড়তি আদায় করা হবে, এর সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম ছিল না। পদ্মা সেতু দিয়ে রেল চালুর সময় সেতুর বাড়তি ভাড়া হিসাবের ক্ষেত্রে নতুন করে চালু বড় সেতুর প্রতি কিলোমিটারকে ২৫ কিলোমিটার ধরে ভাড়া নির্ধারণের নিয়ম চালু হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রমতে, বর্তমানে রেলে কিলোমিটারপ্রতি এসি শ্রেণির ভিত্তি ভাড়া ১ টাকা ৯৫ পয়সা। নন-এসি শ্রেণির ভিত্তি ভাড়া ১ টাকা ১৭ পয়সা। এর সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত করা হয়। এ ছাড়া আন্তনগর ট্রেনে বিরতিহীন চার্জ যুক্ত করা হয় আরও ১০ শতাংশ। দেশে লোকাল, মেইল, কমিউটার ও আন্তনগর—এই চার ধরনের ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে ভাড়ার হার কিছুটা কমবেশি আছে। আন্তনগর ট্রেনেও বিভিন্ন শ্রেণি রয়েছে। এগুলো হলো শোভন চেয়ার, এসি চেয়ার, এসি সিট ও এসি বার্থ (শুয়ে যাওয়ার আসন)। লোকাল ট্রেনে সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ টাকা। আন্তনগরে তা ৩৫ টাকা। তবে সেতু ও উড়ালপথ থাকলে সর্বনিম্ন ভাড়া বাড়ে। রেলের ভাড়া প্রতিটি আসনের ভাড়া নির্ধারণে এসব হিসাব আমলে নেওয়া হয়।

ট্রেনের টিকিট বিক্রি ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, ১৮ মার্চ ঢাকা থেকে রাজশাহী যেতে ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনে শোভন চেয়ার শ্রেণির আসনের ভাড়া ৪০৫ টাকা, স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) শ্রেণির আসনের ভাড়া ৭৭১ টাকা ও এসি সিট শ্রেণির আসনের ভাড়া ৯২৬ টাকা দেখাচ্ছে। কিন্তু একই ট্রেনে ১৯ মার্চে শোভন চেয়ার শ্রেণির আসনের ভাড়া ৪৫০ টাকা, স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) শ্রেণির আসনের ভাড়া ৮৬৩ টাকা ও এসি সিট শ্রেণির আসনের ভাড়া ১ হাজার ৩৫ টাকা দেখাচ্ছে। একইভাবে লালমনিরহাট এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস, বনলতা, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি, পদ্মা, নীলসাগর, চিলাহাটি এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস, একতা, দ্রুতযান, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, বুড়িমারী এক্সপ্রেসসহ সব ট্রেনেরই ভাড়া বাড়ছে।


চালু হচ্ছে যমুনা রেলসেতু

যমুনা নদীতে বর্তমান সড়কসেতুর পাশে আরেকটি নতুন রেলসেতু নির্মাণ করা হয়েছে জাপানের অর্থায়নে। এই রেলসেতুতে আসা ও যাওয়ার দুটি লাইন রয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকেই নতুন সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। তবে একটি লাইন দিয়ে আসা-যাওয়া করে। এখন আর যমুনা সড়কসেতু দিয়ে ট্রেন চলাচল করে না। তবে ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন রেলসেতু দিয়ে ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করা হবে।

১৯৯৮ সালে যমুনা নদীর ওপর সড়কসেতু চালু হয়। ওই সেতুতে শেষ মুহূর্তে রেল যুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়। তবে ২০০৬ সালে সেতুটিতে ফাটল দেখা দেওয়ার পর ট্রেন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। ঘণ্টায় সেতু দিয়ে ২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করত।

নতুন সেতুতে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করতে পারবে। তবে রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, তারা সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল নির্ধারিত করে দিয়েছে। তবে এর চেয়েও কম গতিতে ট্রেন চলাচল করবে।

যমুনা সড়কসেতু দিয়ে প্রতিদিন ৩৮টি ট্রেন চলাচল করেছে। চাহিদা থাকার পরও লাইন ও সেতুর সক্ষমতা না থাকায় ট্রেন বাড়ানো যায়নি। এমনকি ভারী মালবাহী ট্রেন চলাচলেও বাধা ছিল। নতুন সেতু দিয়ে অধিক ট্রেন ও মালবাহী ট্রেন চালানো যাবে বলে রেলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রকল্পের শুরুতে এই সেতুর নাম ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বছরের ডিসেম্বরে সেতুর নাম পাল্টে যমুনা রেলসেতু রাখা হয়।

যমুনা রেলসেতু প্রকল্পের পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, নতুন সেতু চালুর ফলে পুরোনো যমুনা সড়কসেতু দিয়ে আর ট্রেন চলাচল করছে না। এখন মূল সেতু পার হতে ট্রেনে লাগবে দু–তিন মিনিট। আর দুই পারের স্টেশন সয়দাবাদ ও ইবরাহিমাবাদের মধ্যে দূরত্ব ১৩ কিলোমিটার। এই অংশ পার হতে সাত মিনিটের বেশি লাগবে না। নতুন সেতু দিয়ে ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি যাতায়াত সময়ও কমবে বলে জানান তিনি।