শুনানির সময় পাঞ্জাবের প্রসিকিউটর জেনারেল যুক্তি দেন, এসব পরীক্ষা তদন্তের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে বিচারপতি কাকার বলেন, আলোচ্য আবেদন শুধুমাত্র শারীরিক রিমান্ড সম্পর্কিত — ফরেনসিক পরীক্ষার নয়।
বিচারপতি সালাহউদ্দিন পানহোয়ার প্রশ্ন তোলেন, এমন পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা কোথায়? তিনি মন্তব্য করেন, খুন বা জিনার মতো গুরুতর মামলাতেও কখনো এ ধরনের পরীক্ষা করা হয়নি। আশাবাদী, সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্র একই রকম আগ্রহ দেখাবে।
সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্যকে সরকারের উচ্চ প্রোফাইল রাজনৈতিক মামলাগুলোর প্রতি অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার এক প্রকার পরোক্ষ ভর্ৎসনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে সাধারণ নাগরিকেরা বিচারপ্রাপ্তিতে নানা রকম দেরি ও অনিয়মের মুখোমুখি হন।
এই রায় এমন এক সময় এলো যখন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান একাধিক মামলায় জর্জরিত অবস্থায় ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে কারাবন্দি রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি থেকে শুরু করে সহিংসতায় উসকানি পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে এমন খবর ছড়ায় যে সরকার ইমরান খানকে আরও কিছু ফরেনসিক পরীক্ষার আওতায় আনতে চায়। বিষয়টি তার আইনজীবীদের কড়া সমালোচনার মুখে পড়ে, যারা একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তদন্তের এই পর্যায়ে অপ্রয়োজনীয় বলে দাবি করেন।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায় তাৎক্ষণিকভাবে ইমরান খানকে শারীরিক হেফাজতে নেওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছে, যতক্ষণ না নতুন কোনো ভিত্তিতে ট্রায়াল কোর্টে আবেদন করা হয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মামলাগুলোর ক্ষেত্রে আদালতের বাড়তে থাকা নজরদারি এবং কার্যপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতার প্রয়োজনীয়তার দিকে ইঙ্গিত করে।