ডন বলছে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস একজন সিনিয়র সংসদ সদস্যের বরাত দিয়ে আজ মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে।
‘ওয়াশিংটন ভারত-পাকিস্তানকে যুদ্ধবিরতিতে সহায়তা করেছে’ ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে বিক্রম মিশ্রি বলেন, “নয়াদিল্লির সাথে আমেরিকার নিয়মিত আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কোনো মধ্যস্থতা হয়নি।”
রিপোর্ট অনুসারে, পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ৩১ সদস্যের সংসদীয় প্যানেলের সামনে এটি ছিল মিশ্রির প্রথম উপস্থিতি। তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা ওই বৈঠকে, সংসদ সদস্যরা পররাষ্ট্র সচিবকে অসংখ্য প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছিলেন।
সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি ‘সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, সামরিক পদক্ষেপ বন্ধের সিদ্ধান্ত দ্বিপাক্ষিক স্তরে নেওয়া হয়েছে’। যার অর্থ তৃতীয় পক্ষের কোনো ভূমিকা নেই।
সংসদীয় প্যানেলের আলোচনার সময় মিশ্রির কাছে জানতে চাওয়া হয়, ভারত সরকার কেন ট্রাম্পকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখছে এবং যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি খণ্ডন করছে না।
সূত্রের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, মিশ্রি এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, বৈঠকে একজন সংসদ সদস্য পররাষ্ট্র সচিবের কাছে জানতে চান, “ট্রাম্প প্রকাশ্যে কমপক্ষে সাতবার দাবি করেছেন যে, তিনি যুদ্ধবিরতিতে সহায়তা করেছেন। ভারত কেন নীরব ছিল?”
আরেকজন জানতে চান, ‘ভারত কেন ট্রাম্পকে বারবার এই কথা বলার সুযোগ দিয়েছে।”
ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, “সাংসদরা যে ধারণাটি পেয়েছেন তা হলো, ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িত করেনি এবং আমেরিকার এটি ঘোষণা করার সিদ্ধান্তে ভারতও জড়িত ছিল না।”
টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবর বলছে, “মিশ্রি জানিয়েছেন, ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি সম্পর্কে তার মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় করেছেন এবং কোনো সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে নয়, যেখানে ভারত তার বক্তব্য তুলে ধরতে পারত।”
ক্যামেরার সামনে অধিবেশন চলাকালীন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ‘অদূর ভবিষ্যতে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক’ করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছেন।