ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইইউর বাণিজ্য নীতি, মার্কিন কোম্পানির বিরুদ্ধে অযৌক্তিক মামলা এবং মুদ্রা নিয়ে কারসাজি—এসবের কারণে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর ২৫ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি এটিকে “অগ্রহণযোগ্য” বলেও উল্লেখ করেন। এর আগে গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল এবং তা কমিয়ে আনা হয় আলোচনার সুযোগ দিতে।
এই হুমকির পর ইইউ নেতৃত্ব তৎপর হয়ে ওঠে। ইইউ বাণিজ্যপ্রধান মারোস সেফকোভিচ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যদূত ও মন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি ফোনালাপ করেন এবং জানান, তারা হুমকি নয়, বরং সম্মানের ভিত্তিতে সমঝোতা চাইছেন। তবে ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসের নেতারা স্পষ্ট বলেন, তারা উত্তেজনা প্রশমনে রাজি থাকলেও জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েই এগোবেন। ট্রাম্পের এই শুল্ক কৌশল অ্যাপলের ওপর চাপ বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে এই ঘোষণা আসার পর ওয়াল স্ট্রিটের নাসডাক, প্যারিস, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও লন্ডনের শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন হয়। একইসঙ্গে জার্মানির ডিএএক্স সূচকও নেতিবাচক প্রবণতায় চলে যায়। এছাড়া, শুল্ক সংক্রান্ত বিরোধে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কও চাপে পড়েছে। ওয়াশিংটনের অ্যালুমিনিয়াম ও ইস্পাতজাত পণ্যের শুল্ক বাড়ানোর প্রতিক্রিয়ায় ভারতও যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি পণ্যে শুল্ক আরোপের পথে হাঁটছে। ফলে বিশ্ববাজারে এক নতুন শীতল বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।