আলিমার প্রকাশ্য প্রস্তাব: অদৃশ্য শক্তির কাছে সরাসরি আহ্বান
এদিকে, পাকিস্তানে মঙ্গলবার এক তাৎপর্যপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ইমরান খানের বোন আলিমা খান মুখোমুখি হয়ে আর্জি জানান—‘আপনারা যারা অদৃশ্য শক্তি হিসেবে কাজ করছেন, গোপনে নয়—সামনে এসে বলুন, আমাদের ভাই আপনাদের কী ভুল করেছেন?’
তিনি দাবি করেন, ইমরানের মামলাগুলোতে বিচারকদের উপর ‘চাপ’ রয়েছে, পিটিশনগুলো হঠাৎ করেই লিস্ট থেকে গায়েব হয়ে যাচ্ছে, এবং বিচার প্রক্রিয়া অদৃশ্য নির্দেশনা’র মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
আলিমা আরও বলেন, ‘আমার ভাই যদি সারাজীবন জেলেই থাকেন, তবুও তিনি অত্যাচারের কাছে মাথা নত করবেন না। তিনি বলেছেন, আমি আজীবন কারাবন্দি থাকলেও অন্যায়ের কাছে নত হব না।’
তার কথায়, পিটিআই বর্তমানে শক্ত অবস্থানে না থাকলেও, আলোচনার টেবিলে বসে একটি ‘পারস্পরিক বোঝাপড়ার’ পথ খোলা রাখতে চায়।
রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া
আলিমার এই ‘গিভ অ্যান্ড টেক’ প্রস্তাবকে ঘিরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পিএমএল-এনের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সিনেটর ইরফান সিদ্দিকি প্রশ্ন ছুড়েছেন, ‘গিভ অ্যান্ড টেক যদি কোনো ডিল না হয়, তাহলে সেটা আসলে কী?’
তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘আলিমা যা নিতে চাইছেন তা ঠিক আছে, কিন্তু পিটিআই এখন কী দিতে পারবে—সেটা কি কেউ জানে?’
প্রেক্ষাপট
২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে একাধিক দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদের মামলায় অভিযুক্ত হয়ে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন ইমরান খান।
তার দীর্ঘ কারাবাস এবং রাজনীতিতে সেনা ও বিচার বিভাগের ‘অদৃশ্য’ হস্তক্ষেপ নিয়ে ইতোমধ্যে পাকিস্তানের গণতন্ত্রপন্থী শিবিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আলিমা খানের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং সরকারের প্রতিক্রিয়া নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে, যার সর্বশেষ পরিস্থিতি কি হতে পারে এখনো অনিশ্চিত।