২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মস্কো তার পুরনো মিত্র তেহরানের আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। নিজস্ব ড্রোন উৎপাদন শুরু করার আগপর্যন্ত রাশিয়া সস্তা ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। জানুয়ারিতে মস্কো-তেহরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়ে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি সই করে।
এদিকে ইউক্রেনে যুদ্ধের তহবিল সংগ্রহে মস্কোর সক্ষমতা কমাতে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ান তেলের জন্য নির্ধারিত ৬০ ডলারের মূল্যসীমা আরোপ করলেও, ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের ফলে তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়ার জন্য তা কার্যত আশীর্বাদে পরিণত হয়েছে।
যদিও বর্তমানে রাশিয়ার তেলের দাম আবার এপ্রিলের পর্যায়ে ফিরে এসেছে, তবুও ক্রেমলিন ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষক সের্গেই মার্কভ মনে করেন, ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মস্কো-বেইজিং সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে। তিনি বলেন, ‘ইরান থেকে তেল সরবরাহ হ্রাস পেলে চীন রাশিয়ার ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠবে, এতে বেইজিং মস্কোর কাছাকাছি চলে আসবে এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার হুমকির কাছে নত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।’
রাশিয়ার আরও তাৎক্ষণিক লাভ হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে তার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে অবস্থিত ঘাঁটিগুলোতে মনোযোগ দিতে হচ্ছে। মার্কভ বলেন, ‘এখন ইউক্রেনকে আর অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার আশা করা উচিত নয়।’
রাশিয়ার কিছু রাজনীতিবিদ সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ বিশ্বকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে। রাশিয়ার সংসদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির প্রধান লিওনিদ স্লুতস্কি সোমবার সতর্কবার্তায় বলেন, ‘তারা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক উন্নয়নকে হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদের উচিত এখনই এই সংঘাতের তীব্রতার বিরুদ্ধে কথা বলা, যা মধ্যপ্রাচ্যের সীমা ছাড়িয়ে আরও বহু অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।’
রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ ফেডারেশন কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার কনস্তানতিন কোসাচেভ বলেন, ‘যদি ইরান তার প্রতিক্রিয়া ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তু ছাড়িয়ে প্রসারিত করে, তাহলে বর্তমান জটিল পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এতে বৈশ্বিক সংঘাতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।’
এদিকে, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র ইরানকে আরও বেশি সহায়তা দিতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে বাড়তি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক সহায়তা, খাদ্য সরবরাহ ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ সহায়তা। বিশ্লেষক মার্কভ বলেন, ‘যখন বিশ্বের সর্বত্র যুদ্ধের আগুন জ্বলছে, তখন এটা স্পষ্ট যে এই আগুন একত্রিত হয়ে একটি বৃহৎ বৈশ্বিক দাবানলে রূপ নিতে পারে। পশ্চিমারা যে যুদ্ধে জড়িয়েছে, তা রাশিয়ার জন্য কার্যত অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করছে।’