নেতৃবৃন্দ প্রফেসর ইউনূসের দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আজীবন অবদানের প্রশংসা করেন। তাঁদের একজন বলেন, “আমরা এখানে আপনাকে ও বাংলাদেশের জনগণকে সমর্থন করতে এসেছি। আমরা পুরোপুরি আপনার পাশে আছি।”
তাঁরা স্বীকার করেন, প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে অগ্রগতি হয়েছে। তবে ১৬ বছরের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও শোষণের পর দেশটি এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।
অনেক নেতা প্রতিশ্রুতি দেন যে তাঁরা পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারকে তাঁদের অভিজ্ঞতা দিয়ে সহযোগিতা করবেন। একজন নেতা বলেন, “আমরা আপনার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। যেকোনো দিকনির্দেশনা বা সহায়তা লাগলে জানাবেন। অনেক কাজ বাকি আছে।”
সদ্য বাংলাদেশ সফর করা কেরি কেনেডি বলেন, “মানবাধিকার অগ্রগতিতে আপনারা যে সাফল্য অর্জন করেছেন, তা সত্যিই অসাধারণ।”
জর্জটাউন ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মেলান ভারভিয়ার ঘোষণা করেন যে শিগগিরই তাঁদের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানাবে। এনজিআইসি সহ-সভাপতি ইসমাইল সেরাগেলদিন বলেন, “আপনাদের যেকোনো প্রয়োজনে আমরা আছি।”
প্রফেসর ইউনূস অতুলনীয় সমর্থনের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এটি আমার একেবারেই প্রত্যাশিত ছিল না। আপনাদের এভাবে একসাথে এসে আমাদের প্রতি সমর্থন জানানো সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমি ভীষণভাবে মুগ্ধ।”
তিনি চ্যালেঞ্জের তুলনা করেন এক প্রলয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে: “দেশটি যেন টানা ১৫ বছর ধরে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ছিল।”
তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা সামলানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ: “মানুষ তাৎক্ষণিক অলৌকিক পরিবর্তন আশা করছে, অথচ আমাদের সম্পদ সীমিত। তবুও আমাদের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণ করতে হবে—তাঁরা একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়।”
ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের আগামী ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে সহায়তার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমাদের আপনাদের দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। আপনাদের পরামর্শ, সহায়তা ও নৈতিক শক্তি আমাদের জন্য অমূল্য হবে।”
সভায় এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।