প্রাথমিক শিক্ষকদের শাহবাগ অভিমুখী পদযাত্রায় বাধা দিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল ব্যবহার করেছে। শনিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
এর আগে সকালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণসহ তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো শিক্ষক এই অবস্থানে যোগ দেন এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
দাবি ও ক্ষোভ: 'প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ'-এর ব্যানারে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বিভিন্ন অংশসহ চারটি শিক্ষক সংগঠন এই কর্মসূচি পরিচালনা করছে। আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কাশেম-শাহিন), বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (শাহিন-লিপি) এবং সহকারী শিক্ষক দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ। এছাড়াও ঢাকা–চট্টগ্রাম বিভাগের তৃতীয় ধাপে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার সহকারী শিক্ষক ফাতেমা শবনম গ্রেড বৈষম্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, "উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের অফিস সহকারীরা যেখানে ১২তম গ্রেডে বেতন পান, সেখানে আমরা শিক্ষক হয়ে পাই ১৩তম গ্রেডে। এই বৈষম্যের কারণে আমরা সম্মানও পাই না।"
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার শিক্ষক ইয়াছিন মিয়া একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সরকারি গাড়িচালকরা ১২তম গ্রেডে বেতন পান, অথচ শিক্ষকেরা পান ১৩তম গ্রেডে। দেশে শিক্ষকদের এই অবমূল্যায়ন মেনে নেওয়া যায় না।"
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (শাহিন–লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি বলেছেন, "আলোচনা বহুবার হয়েছে, কিন্তু কোনো ফল আসেনি। এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথেই থাকব।"
সহকারী শিক্ষকদের প্রধান তিন দফা দাবিগুলো হলো:
১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ
১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান
শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি বাস্তবায়ন