দেশের মাঝারি শহরগুলোর পরিকল্পনামাফিক উন্নয়নে আগের সরকারগুলো ইতিপূর্বে কার্যকর উদ্যোগ সেভাবে নেয়নি। দেশের আড়াইশোর অধিক পৌরসভার মহাপরিকল্পনা বা মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হলেও গেজেট প্রকাশ করা হয়নি সেগুলোর। ফলে আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় সেই সকল পৌরসভায় এলোমেলোভাবেই ভৌত কর্মকান্ড হয়েছে। ফলে শহরগুলো ধীরে ধীরে অবাসযোগ্য হয়ে পড়েছে।
পৌরসভাগুলোতে মহাপরিকল্পনামাফিক উন্নয়ন হবার কথা বলা আছে স্থানীয় সরকার ও পৌরসভা সংশ্লিষ্ট আইনগুলোতে৷ শহর পরিকল্পনাবিদ নিয়োগের মাধ্যমে এই শহরগুলোর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উন্নয়ন বাস্তবায়ন হবার কথা ছিল। মাত্র অল্প কয়েকটি পৌরসভায় নগর পরিকল্পনাবিদগণ কর্মরত ছিলেন।
বিগত বছরগুলোতে সরকারের কাছে পৌরসভায় পরিকল্পনাবিদ নিয়োগ এর মাধ্যমে শহরের টেকসই নগরায়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) বারবার তাগাদা দিয়েছিল। অনেক প্রতিশ্রুতি থাকলেও বিগত সরকারগুলো এই অতি প্রয়োজনীয় নিয়োগ এর ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে পৌর এলাকাগুলো পরিকল্পনাহীন উন্নয়নে হয়েছে বিপর্যস্ত। দখলে দূষণে ক্রমশ অবাসযোগ্য হয়ে পড়েছে হবিগঞ্জ, মাগুড়া, কলাপাড়াসহ সহ দেশের প্রায় সকল পৌরসভা।
পৌর এলাকায় পরিকল্পনাবিদ নিয়োগের ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ দেশের প্রায় পৌনে দুইশ পৌরসভায় 'শহর পরিকল্পনাবিদ' নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
এই নিয়োগের মাধ্যমে পৌর এলাকায় পরিকল্পনাবিদদের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত উন্নয়ন এর সুযোগ তৈরি হবে। পৌরসভার অর্গানোগ্রাম ও চাকুরী বিধিতে কাজ করতে হবে আরো, যেন পরিকল্পনা পেশার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারে পৌরসভাগুলো।
কার্যকর নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে পৌর এলাকার সঠিক বিকাশ এর এখনই সময়। আমাদের এই শহরগুলো যেন বিকেন্দ্রীকরণ এর কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশকে এই সুযোগ কাজে লাগাতেই হবে।