শুক্রবার বাংলাদেশে ৫.৭ মাত্রার প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর, শনিবার (২২ নভেম্বর) রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় মাত্র আট ঘণ্টার ব্যবধানে আরও তিনটি মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে। এদিকে, ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট 'আর্থকোয়াকট্র্যাকার ডটকম'-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ৯১টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় সমগ্র বাংলাদেশকে মোট তিনটি জোনে বিভক্ত করা হয়েছে—জোন-১ (উচ্চ ঝুঁকি), জোন-২ (মাঝারি ঝুঁকি) এবং জোন-৩ (নিম্ন ঝুঁকিপ্রবণ)। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মানচিত্রে এই ঝুঁকিপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা আছে।
তবে বিশ্বের কিছু দেশ রয়েছে, যা প্রধান ভূমিকম্প ফল্টলাইন থেকে অনেক দূরে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
কম ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহ:
চাদ: উত্তর-মধ্য আফ্রিকার এই দেশটিতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি অত্যন্ত কম। সবচেয়ে কাছের ফল্ট লাইনটি এখান থেকে প্রায় ২,১০০ কিলোমিটার দূরে। তবে এখানে বন্যা, খরা ও দাবানলের মতো অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপদের ঝুঁকি বিদ্যমান।
নাইজার: এটি কোনো প্রধান ফল্ট লাইনের কাছে নেই। ভূমিকম্পের ঝুঁকি কম হলেও বন্যা, খরা ও উচ্চ তাপমাত্রা জনজীবনকে প্রভাবিত করে।
আইভরি কোস্ট: পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেশ কম।
বুরকিনা ফাসো: স্থলবেষ্টিত এই দেশটিতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি কম হলেও বন্যা, খরা ও আগুনের ঝুঁকি রয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুম কৃষি উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে।
বাহামা: ক্যারিবীয় প্লেটের ফল্ট লাইন থেকে প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় এখানে ভূমিকম্প খুবই বিরল। তবে উপকূলীয় বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বেশি।
ফিনল্যান্ড: উত্তর ইউরোপের এই দেশটিতে সবচেয়ে কাছের ফল্ট লাইনও ২,১০০ কিলোমিটার দূরে। তবে খনন বা বিস্ফোরণের কারণে মাঝে মধ্যে মানবসৃষ্ট মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এখানে বন্যা-দাবানলের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যাও বেশ কম।
ডেনমার্ক: উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের এই দেশটি আফ্রিকান-ইউরেশিয়ান প্লেট সীমান্ত থেকে প্রায় ১,৯৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফলে ডেনমার্কে খুব কম মাত্রার ভূমিকম্প হয়।
লাটভিয়া: প্রধান ফল্ট লাইন থেকে ১,১০০ কিলোমিটার দূরে থাকায় লাটভিয়ায় ভূমিকম্প কার্যত দেখা যায় না। তবে বসন্তকালে ভারী বৃষ্টিপাত ও বরফ গলনজনিত বন্যা হতে পারে।
আয়ারল্যান্ড: উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের এই দেশটিতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি কম।
উরুগুয়ে: দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিও প্রধান ফল্ট লাইন থেকে প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় ভূমিকম্প এখানে বিরল ঘটনা। তবে উপকূলবর্তী অবস্থানের কারণে বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।