আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পতিত স্বৈরাচারের দোসররা বিশৃঙ্খলা তৈরির মাধ্যমে ভোট ভণ্ডুলের চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তবে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করেছেন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বাংলাদেশে আসা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিদলের প্রধানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার প্রত্যয়
প্রধান উপদেষ্টা ইইউ প্রতিনিধিদলকে জানান, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শক্তির অনুসারীরা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করতে পারে। তবে সরকার ও নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জনগণের ভোটাধিকার হরণ বা নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
ভোটারদের ব্যাপক আগ্রহ
বৈঠকে ড. ইউনূস নির্বাচনে ভোটারদের প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, এবারের নির্বাচনে বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে অভাবনীয় উৎসাহ লক্ষ করা যাচ্ছে। একটি অর্থবহ পরিবর্তনের লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্ম ভোট দিতে মুখিয়ে আছে, যা উচ্চ ভোটার উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
সমান সুযোগ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড
ইউরোপীয় ইউনিয়নকে পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে কাজ করছি।" প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, এ আলোচনায় আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো কথা হয়নি।
উৎসবমুখর পরিবেশের প্রতিশ্রুতি
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইইউ পর্যবেক্ষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল অবাধ ও সুষ্ঠু নয়, বরং একটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন একটি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।