calendar_today সোমবার, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
কুরআন প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে জাকারিয়াপ্রথম বাংলাদেশি , আনন্দে মাতোয়ারা তার গ্রাম ◆ সরকার উৎখাতের চেষ্টায় কী পেল আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে সাত দশকের ? ◆ ইউনূস আমলের ১৮ মাস: উঠেছে যেসব গুরুতর আইনি প্রশ্ন ◆ আধুনিক ও সবুজ ঢাকা গড়তে একসঙ্গে কাজ করবে এবিজি-ডিএনসিসি ◆ আইসিসিবিতে সেপ্টেম্বর থেকে ‘সুপার সেল কার বাজার’ ◆ মরিনহোর জাদুতে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় কোর্তোয়া ◆ ​শিক্ষকতা থেকে রাজনীতি: সততা ও ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত ◆ ব্যাংক খাত সংস্কার ও পুনঃমূলধনীকরণের উদ্যোগ ‎এডিবির সহায়তায় ◆ সালাহউদ্দিন আহমেদ এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ◆ নিঝুম দ্বীপের বালির ২৫ শতাংশই ভারী খনিজ ◆ এবার জেন আলফার আন্দোলনে উত্তাল ভারত,জেন জি’র পর ◆ ফ্যাসিস্ট’ তকমার আড়ালে কি চাপা পড়ছে ইতিহাসের প্রশ্ন?
home হোম / আন্তর্জাতিক / যুক্তরাষ্ট্রই ২ মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করল. ইরানে বিপদেপড়া
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
আন্তর্জাতিক বিশেষ প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রই ২ মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করল. ইরানে বিপদেপড়া

ভূপাতিত হওয়া একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধার করার সময় ইরানের একটি দুর্গম ঘাঁটিতে আটকেপড়া নিজেদের দুটি পরিবহন বিমান ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী। আজ রোববার (৫ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।

person
বিশেষ প্রতিনিধি verified
Reporter
schedule প্রকাশ: রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ • বিকাল ০৪:০৮
history আপডেট: ৬ মাস আগে
timer ৮ মিনিট পড়ার সময়
visibility ১৬৮ বার পঠিত

এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং পুলিশ পৃথকভাবে দাবি করেছে যে তারা ইসফাহানের কাছে একটি মার্কিন সি-১৩০ সহায়তা বিমান ভূপাতিত করেছে। এর মাধ্যমে পাঁচ সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধের সবচেয়ে বিশৃঙ্খল ৪৮ ঘণ্টার অধ্যায়ে আরেকটি বিতর্কিত ঘটনার সৃষ্টি হলো।

অস্ত্র ব্যবস্থা কর্মকর্তা, যিনি একজন কর্নেল পদমর্যাদার, তাকে রোববার (৫ এপ্রিল) ভোরে মার্কিন বিশেষ বাহিনী উদ্ধার করেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের পাহাড়ে আত্মরক্ষার জন্য সামান্য একটি পিস্তল নিয়ে ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় লুকিয়ে থাকার পর তাকে উদ্ধার করা হয়।

ইজেকশন বা বিমান থেকে বেরিয়ে আসার সময় পাওয়া আঘাতের চিকিৎসার জন্য তাকে কুয়েতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ইরানে দুটি মার্কিন পরিবহন বিমান ধ্বংস

নিউ ইয়র্ক টাইমস এই ঘটনাকে ‘একটি চূড়ান্ত নাটকীয় মোড়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। কমান্ডো এবং উদ্ধার করা কর্মকর্তাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য নির্ধারিত দুটি পরিবহন বিমান ইরানের অভ্যন্তরে একটি দুর্গম ঘাঁটিতে অকেজো হয়ে পড়ে।

স্পর্শকাতর সরঞ্জাম সংবলিত বিমানগুলো ইরানিদের হাতে পড়ার ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে কমান্ডোরা সেগুলো ধ্বংস করার নির্দেশ দেন। এরপর সমস্ত মার্কিন সামরিক সদস্যকে ফিরিয়ে নিতে আরও তিনটি বিকল্প বিমান সেখানে পাঠানো হয়।

শত্রু ভূখণ্ডে নিজেদের বিমান ধ্বংসের এই ঘটনা একটি উল্লেখযোগ্য অপারেশনাল জটিলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ইরানি ভূখণ্ডের গভীরে দীর্ঘস্থায়ী অভিযান পরিচালনার চরম ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

সিবিএস নিউজ নিশ্চিত করেছে যে, নিখোঁজ কর্মকর্তাকে উদ্ধারের সময় মার্কিন কমান্ডোরা ইরানি সেনাদের সঙ্গে সরাসরি বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ওই এলাকায় ধেয়ে আসা ইরানি কনভয়গুলোর ওপর মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে বোমা ও গুলি বর্ষণ করা হয়।

দুইজন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, ‘ভূপাতিত হওয়া কর্মকর্তার কাছে উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি বিকন এবং এনক্রিপ্টেড ডিভাইস ছিল, কিন্তু পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে থাকার সময় আত্মরক্ষার জন্য তার কাছে ছিল কেবল একটি হ্যান্ডগান।’

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল রিপোর্ট করেছে যে, এই মিশনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ‘বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র’ পাঠিয়েছিল এবং সেখানে ‘ইরানি স্থল বাহিনীর সঙ্গে বড় কোনো বন্দুকযুদ্ধ হয়নি’—যা সিবিএস এবং নিউইয়র্ক টাইমসের বর্ণনার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী দলের কোনো মার্কিন সদস্য হতাহত হননি। তবে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিওতে আইআরজিসি এবং বাসিজ সদস্যদের আহত ও মৃত অবস্থায় দেখা গেছে, যারা মূলত ওই মার্কিন সেনার সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছিল।

ইসফাহানের কাছে সি-১৩০ সাপোর্ট বিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের

ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি রেভল্যুশনারি গার্ডের বরাত দিয়ে দাবি করেছে যে, ‘ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের পাইলটকে খুঁজে পেতে নিয়োজিত একটি মার্কিন শত্রু বিমান ইসফাহানের দক্ষিণাঞ্চলে ইসলামের যোদ্ধাদের দ্বারা ধ্বংস হয়েছে।’

পৃথকভাবে, ইরানের পুলিশ কমান্ড দাবি করেছে যে, তাদের কমান্ডো ইউনিট দক্ষিণ ইসফাহান এলাকায় ‘তীব্র গুলিবর্ষণের মাধ্যমে’ একটি মার্কিন সি-১৩০ সাপোর্ট বিমান ধ্বংস করেছে।

তাসনিম কর্তৃক উদ্ধৃত স্থানীয় সূত্রগুলো বিমানটিকে একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান হিসেবে বর্ণনা করেছে।

প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত পেন্টাগন বা সেন্টকম কেউই এই দাবি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি। যুদ্ধের শুরু থেকে ইরান মার্কিন বিমান ভূপাতিত করার একাধিক দাবি করেছে, যার মধ্যে কিছু এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে যে এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানটি ইরানের এমন একটি অঞ্চলে ভূপাতিত হয়েছিল যেখানে ‘ইরান সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত’ রয়েছে। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, ভূপাতিত ওই কর্মকর্তা হয়তো স্থানীয় বেসামরিক নাগরিকদের কাছ থেকে আশ্রয় ও সহায়তা পেয়েছিলেন।

এটি সেই সব এলাকার সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে ইরান সরকার স্থানীয় বাসিন্দাদের ওই আমেরিকানকে খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছিল এবং তাকে জীবিত ধরতে পারলে ৬০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।

সশস্ত্র উপজাতীয় ব্যক্তি এবং গ্রামবাসীরা তাদের ব্যক্তিগত অস্ত্র নিয়ে পাহাড়ের আনাচে-কানাচে ওই আমেরিকানের খোঁজে তল্লাশি চালিয়েছিল।