ছবিটিতে দেখা যায়, ট্রাম্প সাদা পোশাকে একজন অসুস্থ ব্যক্তির মাথায় হাত রেখে তাকে সুস্থ করছেন, যা যিশুর অলৌকিক নিরাময়ের ধর্মীয় চিত্রের সঙ্গে ব্যাপকভাবে মিল রয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন। এ কারণে অনেক সমালোচক এটিকে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করে নিজেকে ‘মুক্তিদাতা’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
পরদিন সোমবার তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর ট্রাম্প ছবিটি সরিয়ে ফেলেন। সাংবাদিকদের তিনি দাবি করেন, ছবিটিতে তাকে ধর্মীয় চরিত্র হিসেবে নয়, বরং একজন চিকিৎসকের ভূমিকায় দেখানো হয়েছে এবং এতে কোনো ধর্মীয় উদ্দেশ্য ছিল না।
এই ঘটনার পেছনে ইরান ইস্যুতে পোপের শান্তির আহ্বানকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখা হচ্ছে। পোপ যুদ্ধের বিরোধিতা করায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের এই পোস্ট ঘিরে শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষই নয়, তার ঘনিষ্ঠ মহলের অনেক সদস্যও সমালোচনায় সরব হন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক নেতারা এটিকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে আখ্যা দেন এবং এ ধরনের কনটেন্টকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশে এ ধরনের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ তারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স মন্তব্য করেন, ট্রাম্প নিজেকে এক ধরনের ‘মেসিয়ানিক চরিত্র’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন, যা উদ্বেগজনক এবং অগ্রহণযোগ্য। তথ্যসূত্র : বিবিসি, আল-জাজিরা