পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন সপ্তাহের শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপের উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে সমুদ্রপথে চলাচলের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত কয়েকটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়।
জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, নিক্ষেপ করা সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি প্রতিহত করা হয়েছে এবং একটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।
চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি শনিবার (৬ জুন) তেহরানে পৌঁছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির জন্য একটি বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চললেও এখনও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। ইরান চাইছে তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, বন্দর অবরোধ তুলে নেওয়া এবং জব্দ সম্পদ ফেরত দেওয়া হোক। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সামরিক কর্মকাণ্ডে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে লেবাননেও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে একটি সামরিক যানবাহনে ইসরায়েলি হামলায় দুই সেনা কর্মকর্তা ও এক সৈনিক নিহত হয়েছেন। লেবাননের সেনাবাহিনী হামলার নিন্দা জানিয়েছে, যদিও ইসরায়েল বলেছে তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি সম্পদ পুনর্বণ্টনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং চলমান শান্তি আলোচনা নতুন করে সংকটে পড়তে পারে।