calendar_today সোমবার, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
কুরআন প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে জাকারিয়াপ্রথম বাংলাদেশি , আনন্দে মাতোয়ারা তার গ্রাম ◆ সরকার উৎখাতের চেষ্টায় কী পেল আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে সাত দশকের ? ◆ ইউনূস আমলের ১৮ মাস: উঠেছে যেসব গুরুতর আইনি প্রশ্ন ◆ আধুনিক ও সবুজ ঢাকা গড়তে একসঙ্গে কাজ করবে এবিজি-ডিএনসিসি ◆ আইসিসিবিতে সেপ্টেম্বর থেকে ‘সুপার সেল কার বাজার’ ◆ মরিনহোর জাদুতে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় কোর্তোয়া ◆ ​শিক্ষকতা থেকে রাজনীতি: সততা ও ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত ◆ ব্যাংক খাত সংস্কার ও পুনঃমূলধনীকরণের উদ্যোগ ‎এডিবির সহায়তায় ◆ সালাহউদ্দিন আহমেদ এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ◆ নিঝুম দ্বীপের বালির ২৫ শতাংশই ভারী খনিজ ◆ এবার জেন আলফার আন্দোলনে উত্তাল ভারত,জেন জি’র পর ◆ ফ্যাসিস্ট’ তকমার আড়ালে কি চাপা পড়ছে ইতিহাসের প্রশ্ন?
home হোম / আন্তর্জাতিক / ভারতের নতুন হাইকমিশনার বাংলাদেশে পা রাখতেই চরম বিতর্ক উসকে দিলেন
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
আন্তর্জাতিক বিশেষ প্রতিবেদন

ভারতের নতুন হাইকমিশনার বাংলাদেশে পা রাখতেই চরম বিতর্ক উসকে দিলেন

বাংলাদেশে পা রাখার পরপরই দুই দেশের জনসংখ্যা ও গণতন্ত্রকে ‘এক করার’ এক অভিনব ও বিতর্কিত মন্তব্য করে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।...

person
বাংলার ডাক verified
Staff reporter
schedule প্রকাশ: রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ • সন্ধ্যা ০৬:৫৪
history আপডেট: ৪ মাস আগে
timer ৬ মিনিট পড়ার সময়
visibility ১৩৩ বার পঠিত

ইমিগ্রেশন ও প্রটোকলসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নতুন হাইকমিশনার। এ সময় পর্যটন ভিসা চালু এবং ভারত কর্তৃক অবৈধ অভিবাসী আখ্যা দিয়ে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে দেওয়া (পুশইন) সংক্রান্ত সাংবাদিকদের সরাসরি প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি।

পর্যটন ভিসা চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “আমি একটাই কথা বলতে পারি; আমাদের যা পপুলেশন আছে ১৪০ কোটি, আর আমি কুড়ি কোটি অ্যাড করি, তাহলে ১৬০; ... তাহলে যা হবে, একসঙ্গে হবে। আলাদাভাবে আমি ভাবছি—আমার মনে ওইটা ঢুকছেই না।” তিনি আরও যোগ করেন, “দেখুন তো হেঁটে চলে এলাম, মনে হচ্ছে না যে আমি বাংলাদেশি না। ...সব সময় আমি বলি একই আকাশ একই বাতাস একই জল তরঙ্গ।”



কোনো এক সাংবাদিক ভারতকে ‘বৃহৎ শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করলে তিনি তা সংশোধন করে বলেন, “নো, নো আমাদের দুজনে মিলে শক্তি; একটা শক্তি হলে হবে না—দুজনে মিলে যা শক্তি হবে, ওইটাই আসল শক্তি। আর ওই শক্তিটা পুরো পৃথিবী যেন দেখে। আমরা মিলেমিশে একটা ক্রিকেট টিম হলে কত ভালো হবে। খেলাধুলা, হেলথ তারপরে টেকনোলজি, এডুকেশন সব মিলে আমরা একটা টিম করে...।”



সীমান্তে পুশইন সংক্রান্ত জটিল প্রশ্নের জবাবে দুই দেশের ‘শক্তিশালী গণতন্ত্রের’ দোহাই দিয়ে তিনি বলেন, “ডেমোক্রেসিতে অনেক ইশুজ থাকে। আপনার একটা বাংলাদেশের স্ট্রং ডেমোক্রেসি, আমাদেরও স্ট্রং ডেমোক্রেসি; দুই ডেমোক্রেসি মিলে গেলে একটা ওয়ার্ল্ড পাওয়ার হয়ে যায়, একটা পুরো ইকোনমিক ওয়ার্ল্ড পাওয়ার হয়ে যায়।”

হাইকমিশনারের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন, দূরভিসন্ধিমূলক ও সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধকারী বক্তব্যের পর দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।



শনিবার (১৩ জুন) সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। তিনি লেখেন, “তিনি ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বলতে কী বুঝিয়েছেন, আমাদের সরকারের উচিত হবে তাঁর কাছ থেকে তা জেনে নেওয়া। ভারত যেমন একটি স্বাধীন দেশ, বাংলাদেশও তেমনি একটি স্বাধীন দেশ। তাঁর এ বক্তব্য স্পষ্ট না হলে জনমনে অবশ্যই বিভ্রান্তি তৈরি হবে।” তিনি আরও বলেন, “যদি তিনি আক্ষরিক অর্থে এ ধরনের কিছু বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তা নিন্দনীয়। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া দরকার।”



একই দিন দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “যারা ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় কথা বলেন, আর যারা বাইরে কথা বলেন, তাদের ভাষা এক হলেও মনোজগতে পার্থক্য রয়েছে। এজন্য সীমান্তের ওপারে কিংবা কলকাতায় গিয়ে বাঙালির সার্টিফিকেট নিতে হবে না। আমরা নৃতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশি। আমাদের ক্ষণজন্মা পুরুষ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ একটি বিরাট অর্জন।”



তথ্যমন্ত্রী যথাযথ জবাব ও আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি ১৪০ কোটি আর ২০ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে চান তাহলে সার্কের ২২০ কোটি মানুষকেও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। যারা এটা চাইবে না আমরা এটাকে সন্দেহের চোখে দেখব। আঞ্চলিকতার জন্য সার্ক এবং আন্তর্জাতিকভাবে জাতিসংঘ—এভাবেই আমরা এগোতে চাই।”