মিয়ানমার সীমান্তে ১০৯ কিলোমিটার কাঁটাতারের পরিকল্পনা
মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় আরাকান আর্মি, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশে পড়ছে। মাদক পাচার, গোলাগুলির স্পিলওভার এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার ১০৯ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রস্তাব বিবেচনা করছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে সীমান্ত নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অবৈধ পুশইন ঠেকাতে সক্ষম বাংলাদেশ
ভারত থেকে কথিত ‘পুশইন’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কাউকে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করতে দেয়নি। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় এসব প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশি নাগরিক হন, তাহলে ভারত সরকারকে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় তালিকা দিতে হবে। আমরা জাতীয়তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। অন্য কোনো পদ্ধতিতে কাউকে গ্রহণ করা হবে না।
বিজিবিকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত
বিজিবি সদরদপ্তর পরিদর্শন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর এ প্রথম তিনি বিজিবির কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সদরদপ্তরে গেছেন। সেখানে সীমান্ত পরিস্থিতি, জনবল, প্রযুক্তি, সরঞ্জাম, যানবাহন, অবকাঠামো ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র সংগ্রহসহ বেশ কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের সিদ্ধান্ত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি প্রণীত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে। তবে নতুন ডগ স্কোয়াড গড়ে তুলতে সময় লাগবে। তাই আপাতত বিজিবির বিদ্যমান ডগ স্কোয়াডকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মাদক পাচার রোধে বিজিবির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিজিবির প্রশাসনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বিষয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। এসব বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় বিজিবির ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও বাহিনীটির সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।
বিজিবি সদস্যদের পদক প্রদানের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাহসিকতা ও বিশেষ অবদানের জন্য প্রতিবছর বিজিবিকে পদক দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে পদকের পাশাপাশি সনদ বা অন্যান্য স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়েও বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিজিবি মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।