তবে এবারের অনুষ্ঠানটি ঘিরে শুরু থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হামলায় নিহতদের স্বজনদের একটি অংশ মেয়রের উপস্থিতির বিরুদ্ধে এই পিটিশনের উদ্যোগ নেয়। পিটিশনকারীদের দাবি, মেয়রের ধর্মের কারণে নয়, বরং তার বিতর্কিত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং উগ্রপন্থীদের সঙ্গে কথিত সম্পর্কের কারণেই তারা এই বিরোধিতা করছেন।
গত মাসে চালু হওয়া পিটিশনটিতে মেয়রের কিছু অবস্থান ও সম্পর্ককে নিউ ইয়র্কের মৌলিক মূল্যবোধের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ব্রুকলিনের বিতর্কিত ধর্মীয় নেতা সিরাজ ওয়াহাজের সঙ্গে মেয়রের যোগাযোগ এবং আল-কায়েদার বোমা হামলা চক্রান্তে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাবেক আইনজীবী রামজি কাসেমকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ের তীব্র সমালোচনা করা হয়। এছাড়া, মেয়রের বাবা মাহমুদ মামদানির ২০০৪ সালে প্রকাশিত বই ‘গুড মুসলিম, ব্যাড মুসলিম’-এ ৯/১১ হামলা সংক্রান্ত কিছু মন্তব্যের প্রসঙ্গও এতে টেনে আনা হয়েছে।
তবে চলতি সপ্তাহের শুরুতে মামদানি এই পদক্ষেপকে উড়িয়ে দিয়ে এটিকে কিছু মানুষের তাকে স্মারক অনুষ্ঠান থেকে দূরে রাখার চেষ্টা বলে বর্ণনা করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার অনড় অবস্থানের কথা জানান।
মামদানি বলেন, “যে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় আমাদের শহর চিরতরে প্রভাবিত হয়েছিল, এই বছরের ৯/১১ স্মারক অনুষ্ঠানে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে আমি গর্বের সঙ্গে নিহতদের পরিবার, বেঁচে যাওয়া মানুষ এবং ফার্স্ট রেসপন্ডারদের সম্মান জানাব। আমরা আরো একবার নিশ্চিত করব যে, এই শহরকে যারা নিজেদের ঘর মনে করে, তাদের কেউই এই শোকের দিনটি কখনো ভুলবে না।”
এদিকে, নিহতদের স্বজনদের অপর একটি ছোট সংগঠন ‘সেপ্টেম্বর ১১থ ফ্যামিলিজ ফর পিসফুল টুমোরোজ’ মেয়রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রায় ২৫০ সদস্যের এই দলটি পিটিশনকারীদের বক্তব্যকে ‘ইসলামোফোবিক’ ও ‘আমেরিকাবিরোধী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যকার বিরোধ নতুন করে চাড়া দিয়ে উঠেছে। মামদানি সম্প্রতি বলেছিলেন যে, নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্ক সফর করলে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। জবাবে নেতানিয়াহু মামদানির বিরুদ্ধে ইরানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার এবং ‘নৈতিক ভণ্ডামির’ অভিযোগ তুলেছেন।
তথ্যসূত্র: আরটি