বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়েছে, এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন বাণিজ্য বাধা কমিয়ে ভারতে বাংলাদেশের রফতানি ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে, যদি এটি মোট ভারতীয় আমদানির মাত্র এক শতাংশও হয়। বিশ্বব্যাংকের মতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রফতানি বর্তমান মাত্রা থেকে ১৮২ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে যদি বাংলাদেশ ও ভারত একটি মুক্ত-বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন করে। দুই দেশের মধ্যে পরিবহন সংযোগ উন্নত করলে রফতানি আরো বাড়তে পারে, ভারতে বাংলাদেশের রফতানি ২৯৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পাবে। আইসিসিবির ত্রৈমাসিক বুলেটিনের সম্পাদকীয়তে গতকাল এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়েছে, বাণিজ্য ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে কম সমন্বিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি। বিশ্বব্যাংকের মতে, আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশে উল্লেখযোগ্য মুনাফার সম্ভাবনা রয়েছে। আন্ত:আঞ্চলিক বাণিজ্য এখন সেই বাণিজ্য সম্ভাবনার মাত্র এক-পঞ্চমাংশে দাঁড়িয়েছে। আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে ‘বিবিআইএন’ দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত এবং নেপালের বিদ্যুতের বাজার-আনুমানিক ১৭ বিলিয়ন মূলধন খরচ সাশ্রয় করবে। পরিবহন ও লজিস্টিক্সের উন্নতির মাধ্যমে ‘ওইএসিডি’দেশগুলোর তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ায় কনটেইনার চলাচলের জন্য ৫০ শতাংশ বেশি খরচ কমাতে পারে।
সার্ক দেশগুলো ১৯৯৩ সালের এপ্রিল মাসে সাপটা (দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি) স্বাক্ষর করেছিল যা সার্ক অঞ্চলের মধ্যে আন্ত:আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রচারের লক্ষ্যে ডিসেম্বর ১৯৯৫ সালে কার্যকর হয়েছিল। সাপটা ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য এলাকা দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। এটি ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ায় তিনটি দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি-এফটিএ রয়েছে, যেগুলো হলো ভারত-শ্রীলঙ্কা, ভারত-ভুটান এবং পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা। অধিকন্তু, বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল চুক্তিটি জুন ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছে, এটি উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার আরেকটি উদ্যোগ। আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং পরিবহনে ইইওঘ দেশগুলির মধ্যে গভীর সম্পর্ক ক্রমবর্ধমান সংযোগ চুক্তির দ্বারা প্রতিফলিত হয়। যাহোক, আঞ্চলিক বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির সুযোগ অনেকাংশে অব্যবহৃত রয়ে গেছে।
দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশ এবং অন্য দেশগুলো তাদের প্রতিবেশীদের তুলনায় দূরবর্তী অর্থনীতির সাথে বাণিজ্য বেশি করে। উদাহরণস্বরূপ, বিশ্ব ব্যাংকের কানেক্টিং টু থ্রাইভ রিপোর্টে দেখা গেছে যে বাংলাদেশের একটি কোম্পানির জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের তুলনায় জার্মানির একটি কোম্পানির সাথে বাণিজ্য করা কম ব্যয়বহুল।
একটি সুপ্রতিষ্ঠিত পরিবহন নেটওয়ার্ক বাণিজ্য সংযোগের জন্য গুরুত্ব¡পূর্ণ। এটি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও একীকরণকে উন্নীত করতে পারে। এ ছাড়াও, ভালোভাবে স্থাপন করা পরিবহন সংযোগ পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।