সংখ্যার ১০ শতাংশ জেলা এবং উপজেলা/থানায় দফতরের তথ্য, কমিটি গঠনের মাধ্যমে সরেজমিনে পুনঃযাচাই করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। কমিটিকে পত্র প্রাপ্তির সাত কর্মদিবসের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করতঃ সুস্পষ্ট মতামতসহ বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন কমিশন সচিবালয়ে দাখিল করতে নির্দেশ প্রদান করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের
ইস্যুকৃত চিঠি অনুযায়ী এটা প্রতীয়মান হয় যে, মাঠ পর্যায়ের যাচাই-বাছাইতে বিএনএমের ৮০টি উপজেলার তথ্য সম্পূর্ণ ঠিক পাওয়া গেছে এবং ২০টি উপজেলা/থানার সম্পূর্ণ সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। কমিশন ইস্যুকৃত চিঠিতে সম্পূর্ণ সঠিক পাওয়া যায়নি এরকম উপজেলা ও থানা সমূহের ১০ শতাংশ অর্থাৎ মাত্র ২টি উপজেলা (রাজশাহী জেলার বাগমারা ও পুঠিয়া উপজেলা) পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ কমিশনের নিজের তথ্য ও বক্তব্য অনুযায়ী যে ১৮টি উপজেলায় বিএনএমের সম্পূর্ণ সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি বলে স্বীকার করেছে তা যাচাই-বাছাই না করেই কমিশন এই দলটিকে ‘সকল শর্ত পূরণ করেছে’ মর্মে নিবন্ধনের জন্য বাছাই করেছে।
আইনজীবীর দাবি, কমিশনের নিজের দেয়া বিজ্ঞপ্তি ,তথ্য ও উপাত্ত অনুযায়ী এই স্ববিরোধী ও পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্তের জন্য পুরো নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি মনে করি এই ভুলের জন্য ভবিষ্যতে কমিশনকে মারাত্মক আইনি চ্যালেঞ্জ এমনকি বিচারের মুখোমুখী হওয়া লাগতে পারে। কমিশন যদি এরকম ত্রুটি এবং বিভ্রান্তিকর পন্থায় একটি দলকে নিবন্ধন প্রদান করে তাহলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণে দায়ী হতে পারেন, যা সংবিধান ও আইনের চরম লংঘন হিসেবে বিবেচিত হবে ।
আপত্তি নং ২: বিএনএম সম্পর্কে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের অনুসন্ধানী রিপোর্টে প্রতীয়মান হয় দলটি একটি কার্যকর রাজনৈতিক দল নয় বরং একটি ভুঁইফোড় অকার্যকর রাজনৈতিক দল।
আপত্তি ও অভিযোগের স্বপক্ষে যুক্তি ও দলিল
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক রাজনৈতিক দল সমূহের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমে আবেদনকারী দলগুলোর মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম নিয়ে যেসব অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছে তাতে বেশীরভাগ রিপোর্টে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ‘বিএনএম’ দলটিকে একটি ‘অকার্যকর’, ‘ভুঁইফোড়’ এবং ‘অপরিচিত’ দল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী তাদের দলের উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যক্রম নেই, অফিসগুলো অকার্যকর, অন্য দলের লোকজন নিয়ে কমিটি করা, গোয়েন্দা সংস্থার দ্বারা অফিস পরিচালনাসহ নানা অভিযোগের সত্যতা উঠে এসেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসকল রিপোর্ট সমূহের বিরুদ্ধে বিএনএম এর পক্ষ থেকে কোনো রকম আপত্তি/প্রতিবাদ জানানো হয়নি। এসব রিপোর্ট পর্যালোচনা করলে বুঝা যাবে বিএনএম যে সকল তথ্য উপাত্ত দিয়েছে তা ভুল অথবা নির্বাচন কমিশনের মাঠ পর্যায়ের যাচাই বাছাই প্রক্রিয়ায় মারাত্মক গলদ রয়েছে।
তিনি বলেন, মূলধারার সংবাদ মাধ্যমে এসকল বাস্তবিক তথ্য ও প্রতিবেদনের কারণে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কমিশনের ভাবমর্যাদা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি এসব আপত্তি ও অভিযোগ আমলে নিয়ে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম’ দলটিকে অনিয়মতান্ত্রিক ও বেআইনিভাবে নিবন্ধন না দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে এই ভূঁইফুড় রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের ইতিবাচক বিজ্ঞপ্তি সারাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে। সংক্ষুব্ধ তরুণ আইনজীবী আলী নাসের এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বলেন, নির্বাচন কমিশনের এই অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণে তিনি ক্ষব্ধ।
নির্বাচন কমিশনে আপত্তি দাখিল রাজনৈতিক দল বিএনএম এর নিবন্ধন না দিতে
ভূঁইফুড় রাজনৈতিক দল বিএনএম এর নিবন্ধন না দিতে নির্বাচন কমিশনে আপত্তি জানিয়েছেন একজন আইনজীবী। আজ ২৩ জুলাই দুপুরে এড. আলী নাছের খান নামের একজন তরুণ আইনজীবী সংক্ষুব্ধ হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) সম্পর্কে...