একটি সহযোগী দৈনিক রাষ্ট্রায়ত্ত সবচেয়ে বড় ব্যাংক সোনালী ব্যাংক থেকে কিভাবে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে তার চিত্র তুলে ধরেছে। এতে তারা দেখাচ্ছেন, ব্যাংকের টপ টু বটম তহবিল তছরুপের সাথে জড়িত। বর্তমান উপ-মহাব্যবস্থাপক মো: শাহজাহান নারায়ণগঞ্জ শাখায় ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করার সময় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাজশে দুর্নীতি করেন। রূপসী নিটওয়্যার নাক কোম্পানিকে ১১৬ কোটি টাকার এলসির ১৭৩ কোটি টাকা ঋণ সুবিধা দেয়া হয়। সাত কোটি টাকার অন্য একটি এলসির বিপরীতে ১৫ কোটি টাকা ঋণ সুবিধা দেয়া হয়। একই কোম্পানির সাথে এ ধরনের আরো কয়েকটি আঁতাত করে বাড়তি অর্থ ব্যাংকের কোষাগার থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়। এই জালিয়াতি চলে অন্যদের সহায়তায় প্রকাশ্যে। এদের কারো বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শাহজাহানকে পদোন্নতি দিয়ে উপ-মহাব্যবস্থাপক করা হয়। ওই অনিয়মের কারণে অন্য একজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই অনিয়মের বিষয় নিষ্পত্তি না করে তাকেও পরে চাকরিতে পুনর্বহাল করেন। তার বিরুদ্ধে ২০২০ সালে ৩৩ কর্মকর্তা ও ২০২১ সালে ২৩ কর্মকর্তাকে অনৈতিকভাবে সুবিধা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, গুরুতর অনিয়মের সাথে জড়িত সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয় না। তাদের ন্যূনতম জবাবদিহিতা নেই। ব্যাংকটির করপোরেট সুশাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ অবস্থায় সোনালী ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ বাড়ছে। দুর্ভাগ্য হচ্ছে, এর ওপর নজরদারি ও শাসন করার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। সোনালী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা যখন এভাবে দুর্নীতিকে আশকারা দিচ্ছেন, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী করছে? নজরদারি করার যে আইনগত শক্তি তাদের রয়েছে, কেন তা তারা প্রয়োগ করছে না?
ব্যাংক ব্যবস্থায় এই ভয়াবহ দুর্নীতির সূত্রপাত করে সরকার। ২০০৯ সালে তারা রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ পুনর্গঠন করে। এর মাধ্যমে দলটি তাদের বিভিন্ন সারির নেতাদের ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালক পদে নিয়োগ দেয়। এর মাধ্যমে তারা নিজ দলের বঞ্চিতদের সুবিধা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা পরিস্থিতির এতটা অবনতি ঘটিয়েছে, এক একটি ব্যাংক প্রায় গিলে খেয়েছে। এই সুযোগে ব্যাংকের বিভিন্ন সারির কর্মকর্তারা অবাধে দুর্নীতি করার সুযোগ পেয়েছে। নজরদারি কর্তৃপক্ষ ব্যাংক ব্যবস্থায় চলা এই লুটপাটকে শুধু দেখে যাচ্ছে। সরকারের প্রভাবে তারা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এই ভয়াবহতা চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত পুরো ব্যাংকব্যবস্থা দেউলিয়া হয়ে যাবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে, সরকার ও সংশ্লিষ্টরা সে জন্য অপেক্ষা করছে।