বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বৈদেশিক সম্পর্ক-বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক ঘটনাবলী কী ঘটছে, ২৯ তারিখে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকার ও সরকারি দলের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের যে যৌথ কর্মকাণ্ড, মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার- এই বিষয়গুলো আমরা তাদের বলেছি। বাংলাদেশে যারা গণতন্ত্র দেখতে চায়, গণতান্ত্রিক শাসন দেখতে চায়, মানবাধিকার দেখতে চায়, একটা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ, আনসার বাহিনী, র্যাব যেভাবে আক্রমণ করেছে, এটা তাদের জানা দরকার।’
আমীর খসরু বলেন, ‘আমরা কূটনীতিকদের বলেছি যে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সরকার ভীতি সৃষ্টি করতেই ২৯ জুলাই সহিংস আক্রমণ করেছে। যাদের আক্রমণ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে উল্টা মামলা করা হয়েছে, এমনকি অনেকে হজে আছে, মৃত ব্যক্তির নামেও মামলা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যত ঘটনা ঘটবে, আমরা আপনাদের কাছে তুলে ধরব, সকলকে বলব। কারণ তারা জানতে চায় কী হচ্ছে বাংলাদেশে? নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ যে পথে চলছে... ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়। ওই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। বিচার বিভাগকে ব্যবহার করা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করা, সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবহার করা, প্রতিনিয়ত হচ্ছে।’
এসব শোনার পর বিদেশী কূটনীতিকরা কী বলেছেন, জানতে চাওয়া হলে আমীর খসরু বলেন, ‘আমরা তাদের সার্বিক পরিস্থিতি জানিয়েছি। উনাদের তো বলার বিষয় নয়।’
বৈঠকে অংশ নেয়া বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে নানারকম তল্লাশি, পর দিন শনিবার ঢাকার প্রবেশ মুখে অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ ও সরকারি দলের হামলা, গুলিবর্ষণ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ, মামলা ও গ্রেফতারের বিষয়ে কূটনীতিকদের বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
সেখানে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান ও পর্যবেক্ষণও তুলে ধরা হয়।
এর আগেও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন বিএনপির নেতারা। সেখানেও তাদের অভিযোগ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশের নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, পাশ্চাত্যের দেশগুলোর তরফ থেকে কূটনৈতিক তৎপরতাও অনেক বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে একাধিক প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছে।
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে একাধিকবার বার্তা দেয়ার পাশাপাশি নির্বাচনে বাধা দানকারীদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করার নীতিমালাও ঘোষণা করা হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি