অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি হাতিরঝিল ৮(৪)২৩ মামলায় ২৫ জুন ও ৫০(১২)২২ মামলায়
৬ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। মঙ্গলবার জামিননামা নিম্ন আদালতে দাখিল করার পর বুধবার সকালেই পরিবারের সদস্যরা কেরানিগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে অপেক্ষা করতে থাকে। সকাল ৯টা থেকেই তাকে কারাগেটে আনা হলেও বিভিন্ন অজুহাতে তাকে ছাড়েনি। দুপুর ৩.১৮ মিনিটে তেজগাঁও থানার একটা গাড়িতে পুলিশ এসে কারাগারের ভেতর ঢুকে তাকে তুলে নিয়ে গেছে। কোথায় নিচ্ছে, কেন নিচ্ছে কেউ জানতেও পারেনি।
ছাত্রশিবিরের হাতিরঝিল পশ্চিম থানা সভাপতি মাকসুদ আলমের ক্ষেত্রেও প্রায় একই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৯ জুন রাত ১০.৩০টায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির হাতিরঝিল পশ্চিম থানা ভাপতি মাকসুদ আলমকে নয়াটোলা আইডিয়াল পয়েন্টের তার বাসার নিচ থেকে হাতিরঝিল থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নুর উদ্দিন অপুর নেতৃত্বে একদল ছাত্রলীগ কর্মী তুলে নিয়ে যায়। এরপর তারা তাকে হাতিরঝিল থানায় হস্তান্তর করে। থানা কর্তৃপক্ষ মাকসুদকে ৩০ ডিসেম্বর ২০২২-এর একটি গায়েবি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। হাতিরঝিল থানার ৫০(১২)২২ নম্বর মামলায় দীর্ঘদিন কারাবরণ করার পর গত ৬ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন মঞ্জুর হয়। হাইকোর্টের জামিনের কাগজ জেল গেটে পৌঁছার পর গতকাল বুধবার পরিবারের সদস্যরা সকাল ৯টা থেকে জেলগেটে দীর্ঘ সময় তাকে আনার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু নতুন করে তার বিরুদ্ধে কোন মামলা না হওয়া সত্ত্বেও বিকেল ৪টায় জেলের মূল ভবনের ভেতর থেকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার গাড়ি গিয়ে তাকে পুনরায় তুলে নিয়ে যায়।
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের হাতিরঝিল পশ্চিম সাংগঠনিক থানার আমীর ইউসুফ আলী মোল্লাকে কারাগারের ভিতর থেকে আটক করে তেজগাঁও শিল্লাঞ্চল থানায় তুলে নিয়ে যাওয়ার তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুর রহমান মূসা ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
বুধবার মহানগরীর নেতারা এক যৌথ বিবৃতি এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ইউসুফ আলী মোল্লার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলায় জামিন পেলেও তাকে বুধবার বেলা ৩টা ১৮ মিনিটে জেলের ভিতর থেকে অন্যায়ভাবে আটক করে তেজগাঁ শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ তাদের ষ্টিকারযুক্ত গাড়ীতে তুলে নিয়ে যায়। যা চরম অন্যায় ও মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন।
নেতারা দাবি করেন, এর আগে জনাব ইউসূফ আলী মোল্লার বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকা সত্ত্বেও গত ৫ মে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে মগবাজার সোনালী বাগের বাসা থেকে ভাত খাওয়া অবস্থায় অন্যায়ভাবে আটক করে নিয়ে যায়। এমনকি আটকের খবর তখন পুলিশ অস্বীকার করে। তাকে দুইদিন গুম রেখে ৭ মে পুরাতন একটি মামলায় ( হাতিরঝিল ৫০ (১২)২২) গ্রেফতার দেখায়। এই মামলার ঘটনার সাথে তার দূরতম সম্পর্ক ছিল না।
নেতৃদ্বয় বলেন, হয়রানি করতে তাকে আরো একটি সাজানো মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলোকে যেভাবে পদদলিত করছে তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে বিনা মামলা, বিনা ওয়ারেন্টে আটক করে গুম রাখা হয়েছিল। আশ্চর্যজনক ও স্পর্শকাতর বিষয় হলো- দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিনের পর কারাগার থেকে বের হওয়ায় আগেই ভেতর থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আওয়ামী লীগ সরকারের স্বৈরাচারী শাসনের অন্যতম নমুনা। এ ঘটনায় আমরা বিক্ষুব্ধ, তীব্র নিন্দা জানাই।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ইউসুফ আলী মোল্লাকে ছেড়ে না দিলে সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গলি প্রদর্শনের নামান্তর হবে। নতুন করে গায়েবি কোনো মামলায় আসামি না করে দ্রুত ছেড়ে দিতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহবান জানাচ্ছি। এটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।