calendar_today সোমবার, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
কুরআন প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে জাকারিয়াপ্রথম বাংলাদেশি , আনন্দে মাতোয়ারা তার গ্রাম ◆ সরকার উৎখাতের চেষ্টায় কী পেল আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে সাত দশকের ? ◆ ইউনূস আমলের ১৮ মাস: উঠেছে যেসব গুরুতর আইনি প্রশ্ন ◆ আধুনিক ও সবুজ ঢাকা গড়তে একসঙ্গে কাজ করবে এবিজি-ডিএনসিসি ◆ আইসিসিবিতে সেপ্টেম্বর থেকে ‘সুপার সেল কার বাজার’ ◆ মরিনহোর জাদুতে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় কোর্তোয়া ◆ ​শিক্ষকতা থেকে রাজনীতি: সততা ও ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত ◆ ব্যাংক খাত সংস্কার ও পুনঃমূলধনীকরণের উদ্যোগ ‎এডিবির সহায়তায় ◆ সালাহউদ্দিন আহমেদ এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ◆ নিঝুম দ্বীপের বালির ২৫ শতাংশই ভারী খনিজ ◆ এবার জেন আলফার আন্দোলনে উত্তাল ভারত,জেন জি’র পর ◆ ফ্যাসিস্ট’ তকমার আড়ালে কি চাপা পড়ছে ইতিহাসের প্রশ্ন?
home হোম / সম্পাদকীয় / বাংলাদেশকে সর্বগ্রাসী দূষণ থেকে বাঁচাতে হবে
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
সম্পাদকীয় বিশেষ প্রতিবেদন

বাংলাদেশকে সর্বগ্রাসী দূষণ থেকে বাঁচাতে হবে

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু জলবায়ু পরিবর্তন। এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী পরিবেশবিদ, পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল আন্দোলন করছে। বায়ুম-লের উঞ্চতা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে, যার অন্যতম প্রবল খরা...

person
বাংলার ডাক verified
Staff reporter
schedule প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট ২০২৩ • দুপুর ১২:৫২
history আপডেট: ৩ বছর আগে
timer ১২ মিনিট পড়ার সময়
visibility ১৫৬ বার পঠিত

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য যত চেষ্টা করছে, নিজ দেশের দূষণ বন্ধ করার জন্য তত চেষ্টা করছে না! তাই ক্রমান্বয়ে সব ধরনের দূষণের মাত্রা বাড়তে বাড়তে অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ফলে প্রায়ই প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি হয়ে জানমালের ক্ষতি হচ্ছে। আইএফআরসি গত ৯ আগস্ট বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এল নিনোর সমস্যা যুক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়েছে। এল নিনোর কারণে এ বছর বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। বাংলাদেশে এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হু। উপরন্তু এডিস মশার প্রজনন স্থান ধ্বংস ও মশা রোধে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে হু।

বাংলাদেশে ভয়াবহ দূষণের অন্যতম হচ্ছে: বায়ু দূষণ, নদী দূষণ, শব্দ দূষণ, পরিবেশ দূষণ ইত্যাদি। এসবের জন্য প্রধানত দায়ী কল-কারখানা, ইটভাটা ও যানবাহনের নির্গত কালো ধোঁয়া, নির্মাণ সামগ্রীর ক্ষুদ্র কণা, পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে আগত বায়ু দূষণ ও বর্জ্য, উচ্চ শব্দ, পলিথিন ও প্লাস্টিক পণ্যের ব্যাপক ব্যবহার, শিল্প ও ই-বর্জ্য ইত্যাদি। বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব শিল্প ও স্থাপনার সনদ দেয়।তন্মধ্যে ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) অন্যতম। এই সংস্থা ‘লিড’ (লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন) নামে পরিবেশবান্ধব শিল্প ও স্থাপনার সনদ দেয়, যা পেতে সংস্থাটির তত্ত্বাবধানে নির্মাণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত ৯টি শর্ত পালন করতে হয় এবং যার মোট পয়েন্ট ১১০। তন্মধ্যে পয়েন্ট ৮০-এর ওপরে হলে ‘লিড প্লাটিনাম’, ৬০-৭৯ হলে ‘লিড গোল্ড’, ৫০-৫৯ হলে ‘লিড সিলভার’ ও ৪০-৪৯ হলে ‘লিড সার্টিফায়েড’ সনদ পাওয়া যায়। ইউএসজিবিসি থেকে গত ৭ আগস্ট নতুন করে দুটি কারখানা সনদ পেয়েছে। ফলে উক্ত সংস্থা থেকে বাংলাদেশের সনদ পাওয়া মোট শিল্পের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০০টি। তন্মধ্যে ৭৩টি লিড প্লাটিনাম, ১১৩ গোল্ড, ১০ সিলভার ও ৪টি সার্টিফায়েড। এদের অধিকাংশই পোশাক ও বস্ত্র কারখানার। অথচ, বাংলাদেশে অসংখ্য শিল্প ও স্থাপনা রয়েছে। এসবের মধ্যে যারা ইউএসজিবিসির সনদ পায়নি তারা পরিবেশ বিধ্বংসী!

রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার দেশের ৫৬টি প্রধান নদীর ওপর গবেষণা করে সম্প্রতি বলেছে, ৫৬টি নদীতেই সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি দূষণের অস্তিত্ব মিলেছে, তবে তুলনামূলক বেশি দূষিত নদী লবণদহ, হাঁড়িধোয়া ও সুতাং। ২০২১ সালে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন মতে, প্রতিদিন ঢাকা সিটি করপোরেশন ৬,৪৬৪ টন বর্জ্য সংগ্রহ করে। এর ১০% প্লাস্টিক, যার ১২% খাল ও নদীতে এবং ৩% ড্রেনে ফেলা হয়। ফলে এসব মজে যাচ্ছে। বর্তমানে বর্জ্যের পরিমাণ আরো বেড়েছে। গত ১১ জুলাই, ২৩ প্রকাশিত সিপিডির গবেষণা প্রতিবেদন মতে, বাংলাদেশে বায়ু ও প্লাস্টিক দূষণ তীব্রতর হচ্ছে। বিশেষ করে, বড় শহরগুলোতে ওই দূষণ মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। ঢাকাসহ বড় শহরে হু’র মানমাত্রার তুলনায় ১৬ গুণ বেশি বায়ুদূষণ হচ্ছে। অন্যদিকে, ২০০৫ সালে ঢাকায় মাথাপিছু প্লাস্টিকের ব্যবহার ছিল ৯ কেজি ২০০ গ্রাম, ২০২২ সালে তা বেড়ে হয়েছে ২২ কেজি ২৫০ গ্রাম। ব্যবহার হওয়া এসব প্লাস্টিকের বড় অংশই প্রকৃতিতে জমা হয়ে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতি হচ্ছে। আবার দেশের উপকূলীয় নদীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য জমা হচ্ছে কর্ণফুলী নদীতে, ৩৯% ও রূপসা নদীতে প্রায় ৩২%।বিশ্বের যে ২০টি দেশে ব্যবহার করা প্লাস্টিক সামগ্রী সবচেয়ে বেশি অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফেলে দেওয়া হয়, তার মধ্যে বাংলাদেশ দশম। উপরন্তু পার্শ্ববর্তী দেশ থেকেও প্রতিনিয়তই বর্জ্য ও দূষণ আসছে। গত আগস্ট,২২ প্রকাশিত এসডোর তথ্য মতে, বাংলাদেশের আন্ত সীমান্ত নদীগুলো প্রতিদিন প্রায় ১৫,৩৪৫ টন একবার ব্যবহৃত প্লাস্টিক বর্জ্য বহন করে। তন্মধ্যে ২,৫১৯ টন ভারত ও ২৮৪ টন মিয়ানমারের। প্রতিবছর বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ছে প্রায় ২৬,৩৭,১৭৯ টন প্লাস্টিক বর্জ্য। দেশ-বিদেশের এসব প্লাস্টিক দেশের মাটি, পানি, মাছ ও উদ্ভিদের ক্ষতি এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। প্রাকৃতিক ভারসাম্যও নষ্ট হয়ে নিত্য নতুন ব্যাধি সৃষ্টি হচ্ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা গত ২২ মে বলেছে, গত ৫০ বছরে চরম আবহাওয়া, জলবায়ু ও নিরাপদ পানি সংক্রান্ত ঘটনার কারণে বাংলাদেশে ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। তাই ওয়ান টাইম ব্যবহৃত ও ননরিসাইক্লিং প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে। এসব অনেক দেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু পরিবেশবাদী সংগঠন-গ্রিনপিস সম্প্রতি বলেছে, পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিক তার ভার্জিন উপাদানের চেয়েও বেশি বিষাক্ত। স্মরণীয় যে, প্লাস্টিক শুধুমাত্র প্রকৃতিরই ক্ষতি করছে না, সেই সঙ্গে মানুষ ও প্রাণীকূলেরও ক্ষতি করছে। এর ক্ষুদ্র কণা খাদ্যচক্রের সাথে মিশে মানুষের শরীরে ঢুকে নানা জটিল ব্যাধি সৃষ্টি করছে। বিজ্ঞানীরা মাছ ও মায়ের দুধেও প্লাস্টিকের কণা পেয়েছেন।


গত ৩ জুন এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, প্রতিবছর দেশে সৃষ্টি হচ্ছে ৩০ লাখ মেট্রিক টন ই-বর্জ্য। সেই হিসাবে ২০২৫ সাল নাগাদ কোটি টনের ই-বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হবে বাংলাদেশ। দেশে মিথেন গ্যাসেরও প্রকোপ ব্যাপক। গত ১৪ মার্চ প্রকাশিত আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ লেটারের তথ্য মতে, বিশ্বের ৬১টি শহরের মিথেন গ্যাস নির্গত হওয়া তালিকায় ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়,করাচী প্রথম। মিথেন গ্যাস সৃষ্টির পেছনে গ্যাস-সংযোগের ছিদ্র, বর্জ্য ও বর্জ্য মিশ্রিত পানির ভূমিকা রয়েছে। মিথেন গ্যাসের কারণে শহরের বাতাস বিপজ্জনক হওয়া ছাড়াও তাপমাত্রাও বাড়াচ্ছে। ফলে অক্সিজেনের পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছ এবং শহরের অধিবাসীদের শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের সমস্যা বাড়ছে। গৃহস্থালি, দোকান ও বাজারের বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে যত্রতত্র পড়ে থাকে, যার বিরাট অংশ পানি, ড্রেন ও জমিতে পতিত হয়ে সংকট সৃষ্টি করছে। যেটুকু বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে, তা ফেলে দেওয়া হচ্ছে শহরের উপকণ্ঠে। সেখান থেকেও পানি ও জমিতে পতিত হচ্ছে। বাকীগুলো সেখান থেকে পচে-গলে ব্যাপক দুর্গন্ধ সৃষ্টি করছে। বর্জ্য থেকে সার ও বিদ্যুৎ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার অগ্রগতি নগণ্য! শিল্প বর্জ্য ও পয়োঃবর্জ্যও পানিতে পতিত হয়ে ব্যাপক দূষণ সৃষ্টি করছে।

২০০২ সালে দেশে পলিথিনের শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ করে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। ফলে উক্ত পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধ হয়েছিল, যার সুফল সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর শিথিলতার কারণে পুনরায় পলিথিনের শপিং ব্যাগের যাত্রা শুরু হয় এবং মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহৃত হতে থাকে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। পলিথিনের ব্যাগ অপচনশীল। তাই খাল-বিল, নদী, হাওর-বাওর, পুকুর, ড্রেন ইত্যাদিতে পতিত হচ্ছে। ফলে সেসব মজে যাচ্ছে। উপরন্তু পলিথিনের স্তূপের কারণে সংস্কারেও ব্যাঘাত ঘটছে! সর্বোপরি পলিথিন মাটিতে পতিত হয়ে মাটির উর্বরা শক্তি কমিয়ে দিচ্ছে।

tag ট্যাগ: #1111