এর আগে ৬ আগস্ট ডালাসের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ম্যাচের টিকিট মাত্র ১০ মিনিটে শেষ হয়ে গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে সেটাই ছিল প্রতিপক্ষের মাঠে মেসির প্রথম ম্যাচ। বিপুল লাভের আশায় প্রতিপক্ষের সমর্থকেরা অবলীলায় নিজেদের টিকিট মায়ামির সমর্থক ও মেসির ভক্তদের কাছে বিক্রি করেন। মাত্র এক মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে এমনই উন্মাদনা তৈরি করেছেন ফুটবল জাদুকর।
২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর ইন্টার মায়ামির ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা কখনোই ৪১ শতাংশের ওপরে ওঠেনি। সেই মায়ামি এখন নিজেদের ইতিহাসের প্রথম শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়ে গেল। রেকর্ড সাতবারের বর্ষসেরা ফুটবলার আসার আগে যে দলটা সর্বশেষ ১০ ম্যাচে মাত্র ১টিতে জিতেছিল, সেই দলই জাদুকরের জাদুর ভেলায় চড়ে টানা ৭ ম্যাচ জিতে মাতলো লিগস কাপ জয়ের আনন্দে।
মায়ামিতে নিজের প্রতিটা ম্যাচেই গোল করলেন মেসি। মাঠে সামনে থেকে দলকে পথও দেখিয়েছেন এই বিশ্বকাপয়ী। সব মিলিয়ে ৭ ম্যাচে তার গোল ১০টি, পাশাপাশি আছে একটি অ্যাসিস্ট।
ফাইনালে ম্যাচের ২৩তম মিনিটে দর্শনীয় গোলে দলকে এগিয়ে নেন মেসি। ডি বক্সের ঠিক বাইরে বল পেয়ে ট্রেডমার্ক দৌড়ে তিনজনকে কাটিয়ে রক্ষণ জটলার মধ্য থেকে নেন বাম পায়ের উচু শট। গোলরক্ষক ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি। পোস্টের উঁচু কোনা দিয়ে জড়িয়ে যায় জালে।
ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে সমতা ফেরায় নাশভিল। বল দখলে তারা পিছিয়ে থাকলেও আক্রমনে স্বাগতিকরা ছিল এগিয়ে। সব মিলিয়ে তারা ১১ শটের ছয়টিই রাখে লক্ষ্যে। বিপরীতে ছয় শটের কেবল দুটি লক্ষ্যে রাখতে পারে মায়ামি।
টাইব্রেকারে প্রথম শটটি নেন মেসি। নাশভিল দ্বিতীয় শটে গোল করতে ব্যর্থ হয়। পঞ্চম শটে মায়ামি গোল পেলে ওখানেই মীমাংসা হয়ে যেত। কিন্তু মিস করেন ভিক্টর উলোয়া। এরপর সমান তালে এগুতে থাকে স্কোরবোর্ড। অবশেষে নিজেদের একাদশ শটে মিস নাশভিল। তাদের গোলরক্ষকের নেওয়া শট বামে ঝাঁপিয়ে রুখে জয়ের বাঁধনহারা উল্লাসে মাতে মায়ামি গোলরক্ষক।