যুক্তরাষ্ট্রের পর জাপান বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ায় নির্ধারণ হয়ে যায় এবার নতুন চ্যাম্পিয়ন পাচ্ছে নারী বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ড নাকি স্পেন? কারা হচ্ছে নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। এ প্রশ্নই কয়েকদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছিল ফুটবল বিশ্বে। যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে, জার্মানি ও জাপানের পর শেষ পর্যন্ত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের খাতায় নাম লেখালো স্পেন। বিশ্বকাপে স্প্যানিশদের অভিষেক হয়েছিল ২০১৫ সালে কানাডায়। প্রথমবার তারা বাদ পড়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত পরের আসরে গ্রুপ পর্ব টপকে নকআউটে উঠে তারা পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামনে। সেখান থেকেই বিদায় নিয়েছিল স্পেনের মেয়েরা। সেই স্পেন টুর্নামেন্টে নিজেদের তৃতীয় অংশগ্রহণে করলো বিশ্বকাপ বাজিমাত।
কাল ফাইনালের শুরু থেকে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলা চললেও ম্যাচের ১৬ মিনিটে ইংল্যান্ডের লরেন হেম্প নিশ্চিত গোলের একটি সুযোগ হারান। এসময় লরেন স্পেনের বক্সের মধ্য থেকে বাঁ পায়ের দারুণ এক শট নিলে, বল ক্রসবারে লেগে ফেরত আসে। এর ঠিক তের মিনিট পর কাঙ্খিত গোলের দেখা পায় স্পেন। ম্যাচের ২৯ মিনিটে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার লুসি ব্রোঞ্জ নিজের পা থেকে বল হারালে তা পেয়ে যান স্প্যানিশ মিডফিল্ডার তেরেসা অ্যাবেলিরা। তিনি দুর্দান্ত ক্রস করলে বল যায় মারিওনা ক্যালডেন্টির পায়ে। ক্যালডেন্টি অধিনায়ক ওলগা কারমোনাকে বল বাড়িয়ে দিলে তিনি কোনাকুনি শটে গোল করে দলকে আনন্দে ভাসান (১-০)। মাত্র ২৩ বছর ৬৯ দিন বয়সে গোল করে কারমোনা নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি ২০২২ সালে অ্যালেক্স মর্গানের পর সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতা হন। এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান বাড়াতে ফের আক্রমণ চালায় স্পেন। বিরতির ঠিক আগে সালমা পারালুয়েলোর শট ডানদিকের পোস্টে আঘাত হানে। অল্পের জন্য বল জালে জড়ায়নি। তা না হলে ২-০ গোলে এগিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করতে পারতো স্পেন। পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করে ইংলিশ গোলরক্ষক ইয়ার্পস দুর্দান্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করেন। তিনি মারিওনা ক্যালডেন্টির দারুণ একটি শট রুখে দেন। কিছুক্ষণ পর হেম্প মাঠের বাইরে বল মেরে ইংল্যান্ডকে হতাশ করেন। স্পেন ব্যবধান বাড়ানোর আরেকটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করে ৬৪ মিনিটে। এসময় বক্সের মধ্যে ওয়ালশের হ্যান্ডবলের আবেদন করে স্প্যানিশরা। ভিএআরে চার মিনিট পর পেনাল্টির রায় দেন রেফারি। জেনিফার হারমোসো পেনাল্টি কিক নিলে তার শটের গতিপথ ঠিক বুঝতে পেরে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে বল ঠেকান ইয়ার্পস। নিধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগকরা সময় দেয়া হয় ১৩ মিনিট। তবে ভাগ্য পাল্টাতে পারেনি ইংল্যান্ড। ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে মিলি ব্রাইটের প্রচেষ্টা দারুণভাবে রুখে দেয় স্পেনের রক্ষণভাগ। তারপরই কর্নার পায় ইংলিশরা। তবে তাদের সমতা ফেরার শেষ সুযোগ নষ্ট করে দেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক কাতা কোল। সঙ্গে সঙ্গেই রেফারি ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজালে প্রথমবার বিশ্ব জয়ের উদযাপনে মেতে ওঠে টিম স্পেন।