ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, যেসব প্রতিষ্ঠান প্রতারণা করেছে তার প্রত্যেকটি দীর্ঘসময় ধরে বাংলাদেশে প্রকাশ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা বাংলাদেশ ব্যাংক, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কোনোটিই কি তাদের বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখেনি। এর কোনো কোনোটিকে তো সরকারের মন্ত্রীরা সার্টিফাই করেছেন।
তারা মনে করেন, বাংলাদেশের মতো অত্যন্ত ঘনবসিতপূর্ণ দেশে সরকার বা কর্তৃপক্ষের অজান্তে কোনো মানুষের পক্ষে ব্যবসায়িক ‘নেটওয়ার্ক’ পরিচালনা করা অসম্ভব। যেখানে গোপন বৈঠক, সরকারবিরোধী কর্মকা-সহ নানা ইস্যু আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী মুহূর্তের মধ্যেই জেনে যায়, সেখানে এমন প্রতিষ্ঠান বছরজুড়ে পরিচালিত হচ্ছে কিন্তু কোনো ভূমিকা নেই।
সমাজবিজ্ঞানী, অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও ভুক্তভোগীরা বলেন, যেসব প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো বিস্তারের শুরু থেকে দায়িত্বশীলেরা জানতেন। শুধু অবহেলা করে জনস্বার্থের দিকে নজর না দিয়ে ব্যবসা চলতে দেয়া হয়েছে। যখন মানুষ সর্বস্বান্ত হয়, তখন সরকার বলে লিখিতভাবে জানান, ব্যবস্থা নেব। এগুলো দায়সারা কথা। নিজের দায়ভার এড়ানোর কথা। ছলচাতুরী ছাড়া আর কিছু নয়। এটাকে কখনো সুশাসনের পর্যায়ে ফেলতে পারি না। শাসনব্যবস্থার করুণ চিত্র এটা। যেকোনো ডিজিটাল প্রতারণা ও অনিয়ম সবার আগে নজরে আসে পুলিশের। তাদের সঙ্গে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক যারা, তারা এটা নজরদারি করবেন। তাদের দায়িত্ব পালনে ঘাটতি আছে। মানুষের টাকার প্রতি লোভ বাংলাদেশে যেমন আছে, অন্য দেশেও আছে। অতীতেও অর্থের প্রতি মানুষের লোভ ছিল। এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। এ লোভে পড়ে মানুষ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটি দেখার দায়িত্ব সরকারের। আইনের মাধ্যমে জনগণকে সুরক্ষা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, একটি সমাজতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটে এটি তৈরি হয়। আর তা হলো সমাজের বৈষম্য; ধনী সমাজের ধনী-দরিদ্রের দূরত্বটা বেড়ে যাওয়া। আর এই দূরত্বটা অতিক্রম করতে সমাজের নিচের তলার মানুষগুলো উপরে ওঠার স্বপ্নে বিভোর থাকে। তাই যেখানে অর্থের ছোঁয়া পায় সেখানেই মানুষ ছুটে যায়। সেখানেই স্বপ্ন বুনে। মানুষ দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। এর মধ্যে তাদের স্বপ্ন ছাড়া আর আছে কী? সুতরাং মানুষ স্বপ্ন দেখবে একটু বড় হওয়ার।