লিমার স্বজনের ভাষ্যমতে, ক্লিনিকটি চালান বাউফলের কালিশুরি বন্দরের অবসরপ্রাপ্ত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী সাহাবুদ্দিন এবং তাঁর স্ত্রী শাহনাজ বেগম। গত শনিবার সকালে লিমার প্রসব বেদনা উঠলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ক্লিনিকটিতে আনা হলে শাহনাজ বেগম লিমার সিজারিয়ান অপারেশন করার কথা জানান। বিকেল ৫টার দিকে লিমাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর কন্যাসন্তান জন্ম দেন। কিন্তু লিমার জ্ঞান ফিরছিল না। ক্লিনিকের লোকজন তড়িঘড়ি করে লিমাকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেয়। স্বজনরা লিমাকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক সোয়েব মাহমুদ তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, আগেই রোগীর মৃত্যু ঘটেছে।
লিমার মা আমেনা বেগমের অভিযোগ, ‘ক্লিনিকেই মারা যায় তাঁর মেয়ে। কিন্তু মৃতদেহে স্যালাইন দিয়ে বরিশাল নিয়ে যেতে বলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। এখন তারা গা-ঢাকা দিয়েছে। তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, বাউফলে বেশ কিছু ক্লিনিক বন্ধের জন্য জেলা সিভিল সার্জনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তালিকায় মাজেদা ক্লিনিকও রয়েছে। বাউফল থানার ওসি এটিএম আরিচুল হক বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি জানান, ভাঙ্গায় অমি আক্তার (১৮) নামের এক প্রসূতির সিজার করার সময় পেটের মধ্যে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রিন হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল রোববার বিকেলে প্রসূতির স্বামী তুষার মিয়া ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ও থানায় অভিযোগ দেন। প্রতিষ্ঠানটির মালিক পক্ষ কথা বলতে রাজি হয়নি।
তুষারের অভিযোগ, গত ২৪ মার্চ স্ত্রী অমিকে ক্লিনিকটিতে ভর্তি করান। ডা. তামান্না হাসান ও ডা. গোপাল দাসের তত্ত্বাবধানে অপারেশন করা হয়। একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। পরে ২৭ মার্চ স্ত্রীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। কিছুদিন পর প্রসূতি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পুনরায় একই হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কোনো কিছুই ধরা পড়েনি। এদিকে কয়েক মাস ধরে অমি পেটের যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। গুরুতর অসুস্থ হলে অমিকে গত ২৩ আগস্ট ঢাকা ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষায় তাঁর পেটে গজ ও মলমূত্রের উপস্থিতি ধরা পড়ে। পরে অপারেশন করে সেগুলো বের করা হয়।
গ্রিন হসপিটালের বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিচার দাবি করেছেন অমির স্বজনরা। অভিযোগের বিষয়ে ফোন করা হলে প্রতিষ্ঠানটির মালিক পক্ষের লোক কে এম মফিজুর রহমান কোনো সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিম উদ্দিন জানান, অভিযোগের সত্যতা পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক গোলাম কিবরিয়া জানান, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।