সুইজারল্যান্ডভিত্তিক পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘আইকিউএয়ার এয়ারভিজুয়াল’ এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক পরিবেশবাদী সংস্থা ‘গ্রিনপিস’ ২০১৮ সালে একটি গবেষণা পরিচালনা করেছিল, যেখানে বায়ুদূষণের ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত ৭৩ দেশের মধ্যে শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। অন্যদিকে দূষিত রাজধানীর তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল দ্বিতীয় এবং শহর হিসাবে ১৭তম। তালিকাটি প্রস্তুত করতে বাতাসে ‘পিএমটু-পয়েন্টফাইভ’ নামে পরিচিত এক ধরনের সূক্ষ্ম কণার উপস্থিতির মাত্রা পরিমাপ করা হয়েছিল, যাতে দেখা গেছে বাংলাদেশের বাতাসে পিএমটু-পয়েন্টফাইভের গড় মাত্রা ৯৭ দশমিক ১ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পিএমটু-পয়েন্টফাইভের দূষণে ফুসফুসের ক্যানসার, স্ট্রোক, হৃদরোগ এবং শ্বাসযন্ত্রের রোগ হতে পারে, যার মধ্যে অ্যাজমা অন্যতম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অকালে প্রাণহানির জন্য দায়ী কারণগুলোর মধ্যে চতুর্থ হচ্ছে বায়ুদূষণ। বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর বিশ্বে অন্তত ৭০ লাখ মানুষ অকালে মারা যাচ্ছে। আর এজন্য বিশ্বে বার্ষিক প্রায় ১৯ লাখ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর কোটি কোটি গাছের চারা রোপণ করার পরও জাতিসংঘ বলছে, গত ১০ বছরে বিশ্বে বিলুপ্ত হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ হেক্টর বনভূমি। এ হিসাবে প্রতি মিনিটে ধ্বংস হচ্ছে প্রায় আট হেক্টর বনভূমি। যে হারে পৃথিবীতে বন উজাড় হচ্ছে, সে হারে বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে না। বাংলাদেশে গড়ে ২৪ ঘণ্টায় ১ লাখ ৩০ হাজার বৃক্ষ নিধন হলেও রোপণ হচ্ছে মাত্র ৩০ হাজার। এ থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে কী নিষ্ঠুর আচরণ করছি আমরা! স্বাভাবিকভাবেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের জলবায়ু, পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের ওপর।
রাজধানী ঢাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা প্রকট আকার ধারণের একটি বড় কারণ যানবাহনের আধিক্য, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে শিল্পবর্জ্যের কারণেও রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। উন্নয়নের চাকা গতিশীল রাখতে হলে মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা জরুরি। এজন্য বায়ুদূষণের কারণগুলো শক্ত হাতে দূর করা উচিত। রাজধানীসহ সারা দেশের পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এ প্রতিষ্ঠান বায়ুদূষণ রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে, এটাই প্রত্যাশা।