এর মধ্যে তিস্তাপাড়ের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। বাড়িঘর তিন থেকে চার ফুট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেকে বসতভিটা ছেড়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ভারতের উজানে পানি বৃদ্ধির কারণে গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট পূর্ব-ঘোষণা ছাড়া খুলে দেয়ায় শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে প্রবল বেগে পানি ঢুকতে থাকে। ফলে বাংলাদেশ অংশে তিস্তা নদীর পানি অস্বাভাবিক বেড়েছে। গঙ্গাচড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম ও কাউনিয়া উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। সেই সাথে ডুবে গেছে বিস্তীর্ণ ধানের ক্ষেত, শাক-সবজি ও অন্যান্য ফসলের ক্ষেত। দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বন্যার্ত মানুষ।
কুড়িগ্রামে ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রসহ প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। শনিবার দুপুর ১২টায় স্থানীয় পাউবো জানায়, তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ২৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। তলিয়ে গেছে আমন ক্ষেত। অন্তত পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দী।
আকস্মিক এ বন্যা মোটেও প্রাকৃতিক নয়। এটি পুরোপুরি ভারতের সৃষ্টি। গজলডোবা বাঁধ পূর্ব-ঘোষণা ছাড়া একবারে খুলে দেয়াই এই বন্যার কারণ। এ ক্ষেত্রে ভাটির দেশকে আগে থেকে জানানোর যে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি তার কোনো তোয়াক্কা করেনি ভারত।
বাংলাদেশ ও এ দেশের মানুষের প্রতি বৈরী আচরণের বহু প্রমাণ ভারতের কর্মকাণ্ডে সব সময়ই স্পষ্ট। বাংলাদেশীদের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষার বিপরীতে ভারতের অবস্থান গত ১৫ বছরে এতটা নগ্ন হয়ে উঠেছে, যা কোনো প্রতিবেশী দেশ আশা করে না। কিন্তু ভারত তাই করছে।
পূর্ব-ঘোষণা ছাড়া গজলডোবা বাঁধ খুলে দিয়ে বাংলাদেশীদের ওপর বন্যার চরম দুর্ভোগ চাপিয়ে দেয়া সেই বৈরী আচরণের অংশমাত্র। আমরা আশা করব, ভারত সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ করবে এবং ভাটির দেশের অধিকারের বিষয়ে সচেতন হবে।