বাঁহাতি পেসারদের সামনে রোহিত-কোহলির দুর্বলতা নতুন কিছু নয়। ওয়ানডেতে ২০২১ সালের পর থেকে বাঁহাতি পেসারদের বিপক্ষে রোহিতের গড় মাত্র ২৩, আউট হয়েছেন ছয়বার। একই সময়ে কোহলির গড় আরও কম- ২১.৭৫। এই সময়ে কোহলি আউট হয়েছেন চারবার। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগে থেকেই রোহিতকে আফ্রিদির বল বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে খেলতে বলেছিলেন অনেক ক্রিকেট-বিশ্লেষক। ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই শাহিনের ইয়র্কারে তিনি এলবিডব্লু হয়েছিলেন। তারও আগে ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ফাইনালে একইভাবে আউট হয়েছিলেন মোহাম্মদ আমিরের বলে। এবার অবশ্য রোহিত এলবিডব্লু হননি। আফ্রিদি কয়েকবারই ইয়র্কার দিয়ে রোহিতের ডিফেন্স ভাঙার চেষ্টা করলেও পারেননি।
আফ্রিদির করা প্রথম দুই ওভার বেশ ভালোভাবেই সামলেছেন ভারতীয় অধিনায়ক। এরপর বৃষ্টিতে কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকাতেই হয়তো মনোযোগ কিছুটা সরে যায় রোহিতের। ওয়ানডেতে এবারই প্রথমবার রোহিতকে আউট করেছেন আফ্রিদি। এর আগে ২০১৮ সালে এশিয়া কাপের ম্যাচে আফ্রিদির বিপক্ষে ১৯ বলে ১৮ রান করেছিলেন রোহিত। ওয়ানডে ক্রিকেটে কোহলির বিপক্ষে এবারই প্রথম বল করেছেন আফ্রিদি। ২ বল করেই ফিরিয়েছেন ৪৬টি ওয়ানডে সেঞ্চুরির মালিককে। তবে সবচাইতে চমকপ্রদ তথ্য হচ্ছে, ওয়ানডেতে একই ম্যাচে রোহিত ও কোহলিকে এই প্রথম আউট করলেন কোনো একজন বোলারা!
গতকাল পাল্লেকেলেতে এশিয়া কাপের বহুল প্রতীক্ষিত দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মহারণে ইশান কিশান ও হার্দিক পান্ডিয়ার বড় এক জুটির পরে আবারও পাকিস্তানের গতি দ্যুতি। আফ্রিদির সঙ্গে যোগ্য সঙ্গ দিলেন দুই ডানহাতি পেসার হারিস রউফ ও নাসিম শাহ। তাদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভারত অলআউট হয়ে যায় ২৬৬ রানে। বৃষ্টির কারণে দুবার বন্ধ হওয়া ভারতের ইনিংসে পাঁচে নেমে ইশান খেলেন ৮২ রানের ইনিংস। ৮১ বল মোকাবিলায় তিনি মারেন ৯ চার ও ২ ছক্কা। হার্দিক ছয়ে নেমে করেন ৯০ বলে ৮৭ রান। তার ব্যাট থেকে আসে ৭ চার ও ১ ছক্কা। এই দুজন ছাড়া ভারতের আর কোনো ব্যাটার ২০ রান পর্যন্তও যেতে পারেননি। প্রথম ৪ উইকেট তারা হারায় ৬৬ রানে। আর বাকি ৬ উইকেট খোয়ায় শেষ ৬২ রানে। ফলে এক পর্যায়ে তিনশ রানের সম্ভাবনা জাগালেও তা দূরের পথই থেকে যায় ভারতের।
অসমান বাউন্স ও গতির উইকেটকে ভালোমতো কাজে লাগান পাকিস্তানের পেসাররা। শাহিন ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ ৪ উইকেট নেন ৩৫ রানে। ৮.৫ ওভারে ৩ উইকেট পেতে নাসিমের খরচা ৩৬ রান। রউফও শিকার করেন ৩ উইকেট। তবে কিছুটা খরুচে ছিলেন তিনি। ৯ ওভারে দেন ৫৮ রান। তিন স্পিনারও ব্যবহার করেন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম। তবে শাদাব খান, মোহাম্মদ নওয়াজ ও আগা সালমানের কেউই উইকেট পাননি।
সুপার ফোরে পাকিস্তান গতির ঝলক দেখিয়ে
ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামের ওয়ানডে রেকর্ড কথা বলছিল ভারতীয়দের পক্ষে, এ মাঠে এই সংস্করণে এখনও পর্যন্ত অপরাজিত এশিয়ার পরাশক্তিরা। তবে এদিন প্রতিপক্ষের জন্য লক্ষ্য খুব একটা বড় দিতে পারেননি রোহিত-কোহলিরা।...