জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘একটি বিষয়ে সবার সঙ্গে আমিও একমত। সারা দেশের সর্বত্র, অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতির মাত্রা আগের তুলনায় আনুপাতিক হারে বেড়েছে।’ পরিকল্পনামন্ত্রীকে সাধুবাদ যে, মিথ্যার চাদর দিয়ে বাস্তব পরিস্থিতিকে তিনি আড়াল করতে চাননি। তবে সীমাহীনই হোক কিংবা আনুপাতিক, লাগামহীন দুর্নীতির ঘোড়াকে বাগে আনবে কে? সরকারকেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। এর আগে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকের মতো দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু জনগণ দুর্নীতি কিংবা সিন্ডিকেটের করাল থাবা থেকে রেহাই পায়নি।
যে দেশ সাংবিধানিকভাবে ‘জনগণই সব ক্ষমতার উৎস’ নীতিতে বিশ্বাসী, সেখানে জনগণের স্বার্থেই অনিয়ম ও দুর্নীতির রাশ টানা জরুরি। তা না হলে মূল্যস্ফীতি আর দুর্নীতির বিরূপ প্রভাব জনসাধারণের জীবনযাত্রাকে খাদের কিনারায় নিয়ে ফেলবে। রোববার জাতীয় সংসদে পরিকল্পনামন্ত্রী দুর্নীতিকে একটা জাতীয় সমস্যা হিসাবেও উল্লেখ করেছেন।
প্রতিকার হিসাবে তিনি আইনকানুন পাশ করে, বর্তমান প্রযুক্তি ব্যবহার করে, জনমত তৈরি করে এবং জনগণের কাছে স্বচ্ছতা তুলে ধরে এর বিরুদ্ধে কাজ করার উপায়ও বাতলে দিয়েছেন। আমরা আশা করব, এসব শুধু কথার কথা নয়, আদতেই দুর্নীতি রোধে এই উপায়গুলো নিয়ে সরকার কাজ করবে। অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প, মেগা প্রকল্পের নামে অর্থ লুটের পথ বন্ধ করবে। রাজনীতিক, আমলা, ব্যবসায়ীসহ সুবিধাভোগী যেসব শ্রেণি অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থের পাহাড় গড়েছেন, সম্পদ পাচার করে বিদেশে বাড়ি-গাড়ি কিনেছেন, তাদের চিহ্নিত করা হবে। সেই সঙ্গে পাচার হওয়া লুটপাটের অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।