কলম্বোতে ঘরের মাঠ বাংলাদেশকে ২১ রানে হারিয়ে এবারের আসরে সুপার ফোর পর্ব শুরু করে লঙ্কানরা। ওই ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২৫৭ রান তুলেছিল শ্রীলঙ্কা। এরপর বাংলাদেশকে ২৩৬ রানেই আটকে দেয় তারা। তবে পরের ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভারতের বিপক্ষে জয়ের দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন দাসুন শানাকারা। গতপরশু ভারতের কাছে ৪১ রানে হেরে যান তারা। ম্যাচে দুই লঙ্কান স্পিনার দুনিথ ওয়েলালাগে ও চারিথ আসালঙ্কার ঘূর্ণিতে ২১৩ রানেই গুটিয়ে যায় ভারতের ইনিংস। জবাবে ব্যাটাররা দায়িত্ব নিয়ে খেলতে না পারায় ১৭২ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচ হারে শ্রীলঙ্কা। ভারতের কাছে হারলেও ব্যক্তিগত পারফরমেন্সে ম্যাচ সেরা হন স্বাগতিক দলের দুনিথ ওয়েলালাগে। বল হাতে ৪০ রানে ৫ উইকেট শিকার ও লোয়ার অর্ডারে ব্যাট হাতে অপরাজিত ৪২ রান এবং দুইটি দারুণ ক্যাচ লুফে নেন ২০ বছর বয়সী ওয়েলালাগে। তাই তো ম্যাচ শেষে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শানাকা ওয়েলালাগের প্রশংসা করে বলেন, ‘তিন বিভাগেই অলরাউন্ড পারফরমেন্স করেছে ওয়েলালাগে। আশা করছি ভবিষ্যতেও তার এমন পারফরমেন্স অব্যাহত থাকবে।’ পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি ‘মহাগুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে শানাকা বলেন, ‘আমরা এখন অঘোষিত সেমিফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবো। এ ম্যাচ জিতলেই টানা দ্বিতীয়বারের মত ফাইনালে খেলার সুযোগ থাকছে। ফাইনালে খেলতে হলে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবার অবকাশ নেই।’ অন্যদিকে সুপার ফোরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারালেও পরের ম্যাচে ভারতের কাছে ২২৮ রানের লজ্জার হার মেনে নেয় পাকিস্তান।
বৃষ্টির কারণে রিজার্ভ ডে’তে গড়ানো পাক-ভারত ম্যাচে দুই ভারতীয় ব্যাটার বিরাট কোহলি ও লোকেশ রাহুলের সেঞ্চুরির সামনে অনেকটাই অসহায় ছিল পাকিস্তানের বোলিং বিভাগ। শেষ পর্যন্ত ভারত ২ উইকেটে পাহাড়সম ৩৫৬ রানের ইনিংস খেললে বোলিংয়ের মতো ব্যাটিংয়েও বাজে পারফরমেন্স করে অসহায় আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হন পাকিস্তানের বিশ্বমানের ব্যাটাররা। ৩২ ওভারে ১২৮ রানে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হলে বিশাল জয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে নাম লেখায় ভারত।
অবশ্য এমন হারকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়ে ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভোলেননি পাকিস্তানের প্রধান কোচ গ্রান্ট ব্র্যাডবার্ন। তার ধারণা এ ম্যাচে দলের ভুলগুলো ফুটে উঠেছে। ব্র্যাডবার্ন বলেন, ‘ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে যা হয়েছে তাতে প্রতিপক্ষের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। সর্বশেষ তিন মাসে কোনো ম্যাচ হারিনি আমরা। কিন্তু এই হার আমাদের সময় মতো মনে করিয়ে দিয়েছে, এখনও কোথায় কোথায় দলের ঘাটতি রয়েছে এবং আমাদের আরও উন্নতির দরকার আছে।’
শ্রীলঙ্কা ম্যাচকে সামনে রেখে ব্র্যাডবার্ন গতকাল বলেন, ‘টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠতে হলে এ ম্যাচে তিন বিভাগেই আমাদের ভালো খেলতে হবে। শ্রীলঙ্কা বেশ শক্তিশালী দল। নিজেদের কন্ডিশনে আরও বেশি ভয়ংকর দল তারা। তবে আমরা নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে, জয় পাওয়া অসম্ভব না।’ যদিও লঙ্কানদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ইনজুরি আক্রান্ত দুই পেসার হারিস রউফ ও নাসিম শাহকে নিয়ে বেশ চিন্তায় আছে পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট। সুপার ফোরে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে রউফ কোমড় এবং নাসিম ডান কাঁধের ইনজুরিতে পড়েন। তাদের ব্যাকআপ হিসেবে দলে ইতোমধ্যে দলে যুক্ত হয়েছেন অনভিজ্ঞ দুই পেসার শাহনাওয়াজ দাহানি ও জামান খান।
গত বছর সর্বশেষ এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দুবাইয়ে ফাইনালে খেলেছিল পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। ওই ফাইনালে ২৩ রানে পাকিস্তানকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল লঙ্কানরা। এ ম্যাচের পর অবশ্য সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আর দেখা হয়নি পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের কাছে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল শ্রীলঙ্কা। ওয়ানডে ফরম্যাটে ২০১৯ সালের অক্টোবরে সর্বশেষ দেখা হয়েছিল শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তানের। ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওই ওয়ানডে সিরিজে লঙ্কানদের ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছিলেন বাবর আজমরা। এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে ১৫৫বার মুখোমুখি হয়েছে এ দুই দল। এরমধ্যে পাকিস্তান জিতেছে ৯২ ম্যাচে, আর শ্রীলঙ্কার জয় ৫৮টি। একটি ম্যাচ টাই ও ৪ ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়।
আজ লঙ্কানদের হারাতে পারলে অস্ট্রেলিয়াকে হটিয়ে ১১৯ রেটিং নিয়ে ফের ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠবেন বাবর আজমরা। আর হেরে গেলে ১১৫ রেটিং নিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে যাবে পাকিস্তান। তখন ১১৮টি রেটিং নিয়ে অস্ট্রেলিয়া শীর্ষে এবং ১১৬ রেটিংয়ে ভারত দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নেবে।