সরাসরি যানবাহন পারাপার করার জন্য এক্সপ্রেসওয়ে। তাই এতে যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা নেই। বিআরটিসির বাস চালু হলে সেগুলোকে বিরতিহীনভাবে চলাচল করতে হবে। এ কারণে যাত্রী না পাওয়ার আশঙ্কায় এক্সপ্রেসওয়েতে টোল দিয়ে বাস চালাতে চায় না কোনো বেসরকারি কোম্পানি। ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ একটি দৈনিককে স্পষ্ট করে বলেছেন, যাত্রীদের নিচে রেখে উপরে বাস চালিয়ে কী লাভ! বিআরটিসি যে বাস নামাচ্ছে, কয়টা যাত্রী পাবে?
সরকারি সংস্থার বাসের টোল দিয়ে বিনিয়োগকারীদের কতটা পোষাবে সময় বলে দেবে। তবে এ পরিষেবা সফল হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ তা অনুমান করা কঠিন নয়।
কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, আংশিক উদ্বোধন করে পুরো সুফল পাওয়ার চিন্তা করা ঠিক নয়। এর সুফল আসবে যখন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এ উড়ালসড়ক ঢাকা-আশুলিয়া উড়াল মহাসড়কে যুক্ত হবে।
প্রকল্পটির সুফল কতটা পাওয়া যাচ্ছে সেটি বিবেচনার আরেকটি দিক হলো যানজট। যানজটের কোনো সুরাহা করেনি। এটি চালুর আগে বনানীর আর্মি স্টেডিয়াম এলাকা থেকে একেবারে কাকলি পর্যন্ত যানজট থাকত। এক্সপ্রেসওয়ে চালুর পর সেই যানজট সরে এসেছে সেতু ভবন থেকে মহাখালী রেলগেট, বাসটার্মিনাল ও সাতরাস্তা এলাকায়। আগে সাতরাস্তা ব্যবহার করে যেসব গাড়ি চলত সেগুলো এখন মহাখালীর জ্যাম এড়াতে ফার্মগেট হয়ে চলাচল করছে। ফলে আগে থেকে জটপূর্ণ ফার্মগেট এলাকায় যানজট তীব্রতর হচ্ছে।
সাড়ে ১১ কিলোমিটার চালু করতে যেখানে ১২ বছর লেগেছে বাকি অংশ চালু করতে কত সময় লাগবে কেউ জানে না। কারণ, লাগামহীন ব্যয়ের কুফল অর্থনীতির ওপর এর মধ্যে পড়তে শুরু করেছে। সামনে আছে জাতীয় নির্বাচন। সরকারের পূর্ণ মনোযোগ থাকবে নির্বাচনের দিকে, উন্নয়ন প্রকল্পে নয়।