আসলে ২০০৭ ও ২০১৯ সালে ভিন্ন দুটি বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের রেকর্ড ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে কতটা কাজে দেবে, কেউ বলতে পারে না। এর পরও পুরোনো রেকর্ডকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণ হলো বিশ্বকাপ সুপার লিগ। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদের মাটিতে হারিয়েছেন তামিম ইকবালরা। এইডেন মার্করামের স্বদেশিরা সে রেকর্ডের কথা ভোলেননি। এ কারণেই কিনা ভারত বিশ্বকাপে সেরা দুটি ইনিংস খেলা দক্ষিণ আফ্রিকাকে ফেভারিট ঘোষণা করতে পারছেন না দেশটির সাংবাদিকরাও। আর যে ম্যাচে ফেভারিট নেই, সে ম্যাচ জিততে পারে যে কোনো দল। বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও তাই মনে করেন। মুম্বাইয়ের রঙিন দুনিয়ায় বিশ্বকাপে রং ছড়াতে নেদারল্যান্ডসের কাছ থেকে প্রেরণা নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাতে চান তারা।
মুম্বাইয়ে সাকিবরা যে হোটেলে থাকেন, সেই তাজ প্যালেসের সামনেই ইন্ডিয়া গেটওয়ে। শত বছর বা দুইশ বছর আগে দূরদেশ থেকে এই গেটওয়ে দিয়ে কত বিদেশিই না মুম্বাইয়ে প্রবেশ করেছেন স্বপ্ন ফেরি করতে। বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন ফেরি করতে আসা সাকিবরাও ২০ অক্টোবর পুনে থেকে মুম্বাইয়ে এসেছেন জয়ে ফিরতে। হোক প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা এই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ স্কোরের মালিক। নিজেদের দিন হলে তাদেরও গুঁড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে বাংলাদেশ। নেদারল্যান্ডস সে প্রেরণা রেখে দিয়েছে। গতকাল ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সাকিবও ডাচদের পারফরম্যান্সের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। প্রোটিয়াদের পারফরম্যান্সের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য তুলে ধরে টাইগার দলপতি বোঝাতে চাইলেন, উড়তে থাকা দলকেও কখনও কখনও মাটিতে নেমে আসতে হয়। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ইংলিশদের গুঁড়িয়ে দেওয়া প্রোটিয়াদের আজ মাটিতে নামাতে চায় টাইগার বাহিনী।
বাংলাদেশ র্যাঙ্কিংয়ের নিচের দল আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলেও পরের তিনটি ম্যাচ খেলতে হয় ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে। সে ম্যাচগুলো হেরেছেন সাকিবরা। যদিও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ভালো খেলছে না। চার ম্যাচ খেলে তিনটিতে হেরে টেবিলের নিচের দিকে তারা। বাংলাদেশ তিন ম্যাচ হেরেও পয়েন্ট টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে। এ থেকে আশাবাদী হতে পারেন সাকিবরা। এক ম্যাচ জিতে টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে থাকা বাংলাদেশের পেছনে আফগানিস্তান, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও নেদারল্যান্ডস। আজ দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাতে পারলে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মোমেন্টামই ঘুরে যেতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে সাকিব বলেন, ‘পয়েন্ট টেবিল দেখলে এখনও আমাদের সম্ভাবনা আছে। অন্যরা হেরে আমাদের সম্ভাবনা তৈরি করে দিচ্ছে। সুযোগটা আমাদেরই নিতে হবে। এখনও পাঁচটি ম্যাচ বাকি আছে। এই ম্যাচ জিতে গেলে যে কোনো কিছুই হতে পারে।’
বিশ্বকাপের আগে বোলিং ছিল বাংলাদেশের শক্তির জায়গা। বিশেষ করে পেস বোলিং ইউনিটের ওপর ভরসা করে বিশ্বকাপে ভালো কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে ভারতে এসেছিল তারা। অথচ টুর্নামেন্টে খেলে ফেলা চার ম্যাচের তিনটিতে বোলাররা ভালো করতে পারেননি। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বোলিং ইউনিটকে জ্বলে ওঠার আহ্বান সাকিবের, ‘এটা এমন একটা মাঠ, যেখানে জিততে হলে বোলারদেরই জেতাতে হবে। বোলিং ভালো না করলে জেতা সম্ভব হবে না। এই মাঠে আগের ম্যাচের ব্যাটিং দেখে যেটা মনে হয়েছে, পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। আমি আশা করব, সমন্বিত বোলিং পারফরম্যান্স করবে বোলাররা।’ এক দিনের ক্রিকেটে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বোলিংনির্ভর দল বাংলাদেশ। যে ম্যাচগুলোতে বোলিং ভালো হয়েছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেগুলো জিতেছে। এই বিশ্বকাপে জয়ের ছন্দে না থাকার পেছনেও রয়েছে বোলারদের ব্যর্থতা। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ভালো করতে যাঁকে বেশি প্রয়োজন ছিল, সেই তাসকিন খেলতে পারবেন না। কাঁধের পুরোনো ব্যথা মাথাচাড়া দেওয়ায় পুনেতে ভারতের বিপক্ষে খেলতে পারেননি তিনি। মুম্বাইয়ের ম্যাচেও ডানহাতি এ ফাস্ট বোলারকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে বলে জানান অধিনায়ক। তাসকিন না খেললেও সাকিবের ফেরা নিশ্চিত। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে খেলবেন বলে বিশ্বকাপের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এলেন তিনি। ঊরুর পেশিতে ব্যথা না হলে ম্যাচ খেলবেন বলেও জানালেন। কারণ বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ মিস করতে চাননি টাইগার দলপতি। চোটের কারণে ভারতের বিপক্ষে খেলতে না পারলেও ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে আর কোনো ম্যাচ মিস করতে চান না তিনি। কারণ হতে পারে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে রেকর্ডের একটি লড়াই চলতে থাকা। বিশ্বকাপে দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ১২০১ রান সাকিবের। মুশফিকের ১০৩৪। ছন্দে থাকা মুশফিক বাকি ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিকতা দেখাতে পারলে স্বাস্থ্যকর একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, যেটা দলের জন্যও ভালো।
পরিসংখ্যান বাংলাদেশকে জেতাতে পারবে না। প্রতিপক্ষকে হারাতে হয় প্রাণবন্ত ক্রিকেট খেলে। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে যেটা করে দেখিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং– কোথাও ভুল ছিল না গত ম্যাচে। বাংলাদেশ কি পারবে মার্করামদের মনোযোগ নষ্ট করতে?