calendar_today সোমবার, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
কুরআন প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে জাকারিয়াপ্রথম বাংলাদেশি , আনন্দে মাতোয়ারা তার গ্রাম ◆ সরকার উৎখাতের চেষ্টায় কী পেল আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে সাত দশকের ? ◆ ইউনূস আমলের ১৮ মাস: উঠেছে যেসব গুরুতর আইনি প্রশ্ন ◆ আধুনিক ও সবুজ ঢাকা গড়তে একসঙ্গে কাজ করবে এবিজি-ডিএনসিসি ◆ আইসিসিবিতে সেপ্টেম্বর থেকে ‘সুপার সেল কার বাজার’ ◆ মরিনহোর জাদুতে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় কোর্তোয়া ◆ ​শিক্ষকতা থেকে রাজনীতি: সততা ও ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত ◆ ব্যাংক খাত সংস্কার ও পুনঃমূলধনীকরণের উদ্যোগ ‎এডিবির সহায়তায় ◆ সালাহউদ্দিন আহমেদ এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ◆ নিঝুম দ্বীপের বালির ২৫ শতাংশই ভারী খনিজ ◆ এবার জেন আলফার আন্দোলনে উত্তাল ভারত,জেন জি’র পর ◆ ফ্যাসিস্ট’ তকমার আড়ালে কি চাপা পড়ছে ইতিহাসের প্রশ্ন?
home হোম / রাজনীতি / বিএনপি ঢাকামুখী নেতাকর্মী
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
রাজনীতি বিশেষ প্রতিবেদন

বিএনপি ঢাকামুখী নেতাকর্মী

বিএনপির মহাসমাবেশ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে উত্তেজনার পারদ। ২৮ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠেয় মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে চলছে সরকারি দলের হুমকি-ধমকি; পাড়া-মহল্লায় পাহারা বসানোর ঘোষণা। প্রতিদিনই বাড়ছে গ্রেপ্তার আর মামলার সংখ্যা।...

person
বিশেষ প্রতিনিধি verified
Reporter
schedule প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৩ • সকাল ০৯:৫৮
history আপডেট: ২ বছর আগে
timer ১৩ মিনিট পড়ার সময়
visibility ৩৮ বার পঠিত

দলটির শীর্ষ কয়েকজন নেতা সমকালকে বলেছেন, সমাবেশে বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীর ঢল নামাতে চান তারা। ফলে নেতাকর্মী যেন সমাবেশে না আসতে পারেন, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হতে পারে। এমনকি পথে পথে বিএনপি নেতাকর্মীকে পুলিশি হয়রানি বা তাদের ওপর হামলার আশঙ্কাও করছেন তারা। তাই সমাবেশে যোগ দিতে বিভিন্ন জেলার বিএনপি নেতাকর্মী নানা কৌশলে সড়ক, রেল ও নৌপথে আগেভাগেই ঢাকায় ঢুকছেন। ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে ঢাকায় আসছেন তারা।

বগুড়ার গাবতলী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, গাবতলী উপজেলা থেকে শনিবার রাতে শতাধিক নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দিতে ঢাকায় গেছেন। এখনও যাচ্ছেন। এ জেলা থেকে ঢাকায় মহাসমাবেশে কমপক্ষে ৩০ হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় যাবেন বলে দাবি করছেন নেতারা।

খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী জানান, তারা এরই মধ্যে প্রস্তুতি সভা করেছেন। জেলার ৯টি উপজেলা থেকে প্রায় চার হাজার নেতাকর্মী মহাসমাবেশে যোগ দেবেন। তবে কোনো বাস ভাড়া করে নেতাকর্মী একসঙ্গে ঢাকায় যাবেন না। নেতাকর্মী যে যার মতো সমাবেশের আগে ঢাকায় পৌঁছে যাবেন। সমাবেশের আগের দিন বাস বন্ধ করে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকায় আসা কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে শুধু ঢাকা মহানগরেই নয়, সারাদেশে অভিযান চলছে। তাদের বেশির ভাগই বাড়িছাড়া। মামলা না থাকলেও পুরোনো মামলায় অজ্ঞাত আসামির তালিকায়ও গ্রেপ্তার হয়েছেন অনেকে। ঘরে থাকলেও বিপদ আর রাজপথে থাকলেও বিপদ। তাই বিপদ মাথায় নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন তারা। সামনের কয়েক দিনে আরও বাধা-বিপত্তি আসতে পারে।

দলের নেতারা জানান, এবারের মহাসমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য তারা বিভিন্ন কৌশল নিয়েছেন। প্রতিবার ঢাকায় কর্মসূচিতে আসার সময় যানবাহন বন্ধ থাকা, পথে পথে তল্লাশিসহ নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। সে কারণে এবার তারা মহাসমাবেশের আগেই ঢাকায় চলে আসেন। হোটেলে থাকলে সেখানে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আটক করে। সে কারণে বন্ধু-বান্ধব অথবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলনের চূড়ান্ত ধাপে ১৮ অক্টোবর জনসমাবেশ থেকে এই মহাসমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামআলমগীর। এই কর্মসূচি থেকে মহাযাত্রা শুরুর কথা বলেছিলেন তিনি। তাঁর ওই ঘোষণার পর থেকেই সেদিন কী ঘটতে যাচ্ছে, কী ঘটবে– তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই দিন শুধু শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হবে। সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যে ৩০ অক্টোবর ঢাকায় সচিবালয়মুখী গণমিছিল অথবা পদযাত্রার কর্মসূচি আসতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। সূত্র জানায়, এ কর্মসূচিকে ভিন্ন নামে ডাকলেও এটি মূলত ঘেরাও কর্মসূচি। ধাপে ধাপে এক দফার এ আন্দোলনকে পরে নির্বাচন কমিশন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়মুখী পদযাত্রার দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। এতেও দাবি আদায় না হলে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। পরের ধাপে অবরোধের মতো কর্মসূচি থাকবে বলে জানা গেছে।

দলটির অভিযোগ, বিএনপির এই কর্মসূচি ঘোষণার আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কর্মসূচি ঘোষণার পর সেটা আরও বেশি মাত্রা লাভ করেছে। গত ১৭ অক্টোবর থেকে সারাদেশে নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ৪৯টি মামলা করা হয়েছে। যাতে ১৩ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ছয় শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এর মধ্যে নরসিংদী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মঞ্জুর এলাহী, ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস মৃধা, ইকবাল হোসেন বাবলু, মুন্সীগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেনসহ আরও অনেকে রয়েছেন।

ঢাকা মহানগরের নেতাকর্মীরা জানান, কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকে তারা কৌশলে চলাফেরা করছেন। বাসাবাড়িতে যাচ্ছেন না। একেক দিন একেক জায়গায় ভবঘুরের মতো থাকছেন। একাধিক নেতাকর্মী এক জায়গায় জড়ো হচ্ছেন না। এর মধ্য দিয়েও মহাসমাবেশ সফল করতে দিনরাত কাজ করছেন তারা। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীর দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। ওই দিন স্মরণকালের সবচেয়ে বড় গণজমায়েত করতে কাজ করছেন বলেও জানান তারা। জানা গেছে, বিএনপির ঘোষিত মহাসমাবেশ বাধাগ্রস্ত করতে ক্ষমতাসীন দল কী কী পদক্ষেপ নিতে পারে, আবার অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরাও সেসব কাটিয়ে উঠতে কী কৌশল নিতে পারে– তা নিয়ে চলছে আলোচনা। যদিও দলের কেউ কেউ মনে করছেন, বৈশ্বিক চাপে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। আগের মতো এবারের মহাসমাবেশে সরকার বাধা দেবে না।

অবশ্য বেশির ভাগ নেতা মনে করছেন, পূজার ছুটির পর ধরপাকড় আরও বাড়বে। যারা নেতৃত্ব দিতে পারেন, যারা বেশি লোকসমাগম ঘটাবেন, তাদেরই টার্গেট করা হয়েছে। তবে এসবে এবার আর তারা দমে যাবেন না। পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে এসেছে যে, সরকার বাধা দিলেই তারা ঘরে ফিরে যাবেন– এমনটা এবার হবে না। ঢাকার মহাসমাবেশে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে যারা আসবেন, তাদের অনেকেই ফিরে যাবেন না। পরবর্তী কর্মসূচিতে তারাও অংশ নেবেন। এর আগেও যুবদলের যুব সমাবেশ এবং বিএনপির জনসমাবেশে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীর অনেকেই রয়ে গেছেন পরবর্তী কর্মসূচি বাস্তবায়নে।

বিরোধী নেতাকর্মীরা দুঃখ করে বলেন, তাদের হারানোর কিছু নেই। বিগত ১৫ বছর ধরে তাদের নামে অনেক মামলা হয়েছে, অনেকবার কারাগারে গেছেন, হামলার শিকার হয়েছেন। নিজেদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক ও সামাজিক জীবন আজ ধ্বংসের মুখে। ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ। আয়-রোজগার নেই। এমন অবস্থায় এবার এই আন্দোলনকে তারা বাঁচা-মরার লড়াই হিসেবে নিয়েছেন। এবারও তারা সফল হতে না পারলে সারাজীবন কারাগারে কিংবা পালিয়ে বেড়াতে হবে। তাই নতুন জীবনের আশায় এবার নিজেদের সর্বোচ্চ ভূমিকা নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক বলেন, তারা শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশ করতে চান। সব ধরনের বাধা মোকাবিলায় বিকল্প কৌশলও ঠিক করে রাখা হয়েছে। যত বড় বাধাই আসুক, এবার কর্মসূচি সফল করতে নেতাকর্মী পিছু হটবেন না। কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে, তা বাস্তবায়ন করবেন। তবে বাধা এলে এবার আর ছাড় নয়, প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

নতুন করে ধরপাকড় ও মামলার ব্যাপারে নেতাকর্মীকে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকমান্ড। এমনকি মামলা বা গ্রেপ্তারের ভয় উপেক্ষা করে দলের কর্মসূচি বাস্তবায়নেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অতীতে কর্মসূচি সফল করতে গিয়ে যেসব দুর্বলতা সামনে এসেছে, তাও তারা এবার বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক সভায় এ নির্দেশনা দিয়ে দলটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, গণতান্ত্রিক শক্তির মহাযাত্রা, গণবিরোধী শক্তির পতনের যাত্রা শুরু হয়ে গেছে। ২৮ অক্টোবর থেকে ফ্যাসিবাদ পতনের চূড়ান্ত ধাপের আন্দোলন শুরু হবে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের এই আন্দোলনের সম্মুখভাগে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তারা অতীত অভিজ্ঞতায় দেখেছেন– বিএনপির কর্মসূচিতে সরকার যত বাধা দিয়েছে, তত বেশি লোকসমাগম ঘটেছে। গত বছরের ১০ ডিসেম্বর তাদের বিভাগীয় গণসমাবেশ বানচাল করতে সরকার হামলা করেছে, দলীয় কার্যালয় তছনছ করেছে, একজন কর্মীকে হত্যা করেছে। কিন্তু তাতে কি জনতার ঢল থামাতে পেরেছে? এবারও পারবে না। বরং আগের চেয়ে আরও অনেক বেশি জনস্রোত আসবে। সেটাকে আটকানোর সাধ্য সরকারের নেই।

tag ট্যাগ: #111